আরজি কর লিফট বিভ্রাট কাণ্ডে গ্রেফতার ৫, তদন্তে নামল ফরেন্সিক দল
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: আরজি কর হাসপাতালে লিফট দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় তদন্তে গতি বাড়াল প্রশাসন। গাফিলতির অভিযোগে ইতিমধ্য়েই ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, যান্ত্রিক ত্রুটির উৎস খুঁজতে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে রাজ্যের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ দল। মৃত অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার টালা থানায় জিজ্ঞাসাবাদের পর তিন লিফট অপারেটর এবং দুই নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, দুর্ঘটনার সময় কর্তব্যে চরম গাফিলতি ছিল তাঁদের।
তদন্তের প্রধান দিকগুলি হলো:
যান্ত্রিক পরীক্ষা: লিফটটি কেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেল এবং সেন্সরে কোনও সমস্যা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা।
ম্যানুয়াল গাফিলতি: দুর্ঘটনার সময় লিফটের ভেতরে কোনও কর্মী কেন উপস্থিত ছিলেন না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উদ্ধারকাজ: পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, উদ্ধারকাজে কেন দেরি হলো এবং বাইরের গ্রিল ভাঙতে কেন সময় লাগল, সেই বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
মৃত অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (৪০) ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল ভয়াবহ। প্রবল চাপে পাঁজরের একাধিক হাড় ভেঙে গিয়েছিল। এছাড়াও, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস এবং প্লীহা ফেটে গিয়েছিল। হাত ও পায়ে একাধিক গুরুতর চোট ছিল। পরিবারের দাবি, লিফট ও দেওয়ালের মাঝে আটকে পড়ায় এই মর্মান্তিক পরিণতি হয় তাঁর। লিফটের দরজা খুললেও বাইরে কোলাপসিবল গেট থাকায় তিনি বের হতে পারেননি, সেই মুহূর্তেই লিফটটি ফের উপরের দিকে উঠে যাওয়ায় তিনি পিষ্ট হন।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তা নিশ্চিতে একাধিক কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে-
রিপোর্ট তলব: স্বাস্থ্য দফতর পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়েছে।
নতুন নিয়ম: হাসপাতালের ৩২টি লিফটের প্রতিটিতেই এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে লিফট অপারেটর বা কর্মী থাকবেন। কর্মী ছাড়া কাউকে লিফটে উঠতে দেওয়া হবে না।
রক্ষণাবেক্ষণ: হাসপাতালের প্রতিটি লিফটের যান্ত্রিক ফিটনেস পুনরায় পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
