মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি হাহাকার: খাদের কিনারায় পাকিস্তান, সংকটে ভারতসহ ১০ দেশ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের উত্তাপ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি এবং ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোর তেল শোধনাগারে লাগাতার হামলার জেরে কার্যত স্তব্ধ হওয়ার মুখে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা। এই সংঘাতের জেরে ভারতসহ বিশ্বের অন্তত ১০টি দেশে জ্বালানি সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলো নিয়েছে নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ।
সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের। জ্বালানি সাশ্রয় করতে শাহবাজ শরিফ সরকার কার্যত দেশজুড়ে এক প্রকার ‘লকডাউন’ ঘোষণা করেছে। সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহ শেষ হতেই সমস্ত স্কুল টানা দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে। উচ্চশিক্ষার ক্লাস হবে শুধুমাত্র অনলাইনে। ব্যাংক বাদে সমস্ত সরকারি অফিস সপ্তাহে মাত্র চারদিন খোলা থাকবে। জরুরি পরিষেবা বাদে সরকারি দপ্তরের ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি দপ্তরে জ্বালানি বরাদ্দে ৫০ শতাংশ হ্রাস এবং মন্ত্রীদের ভাতাও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি ঘাটতির প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। সেখানে তেল বিক্রিতে কড়া রেশনিং চালু করা হয়েছে। মোটরসাইকেলের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং গাড়ির জন্য ১০ লিটারের বেশি তেল মিলছে না। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কায় জ্বালানির দাম একধাক্কায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মিয়ানমারে তেলের অভাবে পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষ প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডে ভিড় করছেন।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি এক গভীর মন্দার মুখে পড়বে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট খনিজ তেলের একটি বিশাল অংশ পরিবাহিত হয়। ইরান এই পথটি নিয়ন্ত্রণ বা রুদ্ধ করলে সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে। যার ফলে আগামী দিনগুলোতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর পাশাপাশি উন্নত দেশগুলোতেও মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছানোর আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
