এবার ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটাগরি নিরাপত্তা পেলেন হুমায়ুন কবীর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- লাগাতার প্রাণনাশের হুমকির জেরে অবশেষে নিরাপত্তা বাড়ানো হলো মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিতর্কিত তথা দাপুটে বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের। রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর নিরাপত্তা বাড়িয়ে এবার ‘ওয়াই প্লাস’ (Y+) ক্যাটাগরি করা হয়েছে। এখন থেকে সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পুলিশি ঘেরাটোপে থাকবেন তিনি।
বেশ কিছুদিন ধরেই হুমায়ুন কবির অভিযোগ করে আসছিলেন যে, তাঁকে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কখনও ফোন মারফত, কখনও আবার অন্যভাবে তাঁকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে তিনি সরব হয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের দ্বারস্থ হন এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আগে তিনি সাধারণ স্তরের নিরাপত্তা পেতেন। তবে ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটাগরি হওয়ায় তাঁর নিরাপত্তায় আমূল বদল আসছে। এখন থেকে তাঁর সঙ্গে সবসময় ১১ জন নিরাপত্তা কর্মী থাকবেন। এর মধ্যে ২ থেকে ৩ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী (PSO) হিসেবে ২৪ ঘণ্টা তাঁর সঙ্গে মোতায়েন থাকবেন। বাড়ির নিরাপত্তার জন্যও বিশেষ সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবস্থা করা হবে। একাধিকবার তিনি দাবি করেছেন তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এক ব্যবসায়ী তাঁর নিরাপত্তায় বাউন্সার পাঠাচ্ছেন বলে দাবি করেছিলেন। প্রথমে জানা গিয়েছিল, হায়দরাবাদ থেকে এসেছে বাউন্সার। যদিও পরবর্তীতে প্রকাশ্যে আসে আসল তথ্য। জানা যায়, তাঁর নিরাপত্তায় যে কয়েকজন মোতায়েন করা হয়েছে সকলেই নাকি বাংলার। এরপরই তড়িঘড়ি তাঁদের সরিয়ে দেন হুমায়ুন। এসবের পর অবশেষে এবার নিরাপত্তা পেলেন বিতর্কিত এই বিধায়ক।
তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির বরাবরই তাঁর স্পষ্টবক্তা ও বেফাঁস মন্তব্যের জন্য সংবাদ শিরোনামে থাকেন। নিজের দলের একাংশের বিরুদ্ধেও মাঝেমধ্যে তাঁকে সরব হতে দেখা গেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, মুর্শিদাবাদের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে তাঁর মতো নেতার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা প্রশাসনের কাছে অত্যন্ত জরুরি ছিল।
নিরাপত্তা বৃদ্ধির খবর নিশ্চিত করে বিধায়ক জানান, “আমাকে জনমানস থেকে বিচ্ছিন্ন করার চক্রান্ত চলছে। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তে আমি খুশি। এখন আরও নির্ভয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে পারব।”
এই ঘটনায় জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা। বিরোধীরা অবশ্য এই নিরাপত্তা বৃদ্ধিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। তবে সব মিলিয়ে ভরতপুরের বিধায়ক এখন কড়া পুলিশি পাহাড়ায়।
