আজকের দিনেতিলোত্তমা

দোলের দিনে বিজেপিকে বিঁধে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট মমতার

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে ফের নতুন মাত্রা যোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর একটি ছবি শেয়ার করে একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন তিনি, যা নিয়ে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

​পোস্টে কী লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী?

​মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে শ্রীচৈতন্যের প্রেম ও সম্প্রীতির বাণীর কথা স্মরণ করিয়ে লিখেছেন, বাঁচাতে হবে শ্রীচৈতন্যের বাংলা। আজকের এই বিশেষ দিনে এই শপথ আমাদের নিতে হবে যে শ্রীচৈতন্যদেবের বাংলার ধর্মনিরপেক্ষতার, সহিষ্ণুতার ঐতিহ্যের গায়ে আমরা দাগ লাগতে দেব না। কোনো রাজনৈতিক দলের নাম সরাসরি না নিলেও, রাজনৈতিক মহলের মতে তাঁর নিশানায় ছিল প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। শ্রীচৈতন্য যে অহিংসা, সাম্য এবং সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিয়েছিলেন, সেই ঐতিহ্য রক্ষার ডাক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পরোক্ষভাবে বিজেপির ‘বিভাজনের রাজনীতি’র বিরুদ্ধেই সরব হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​কেন এই পোস্ট তাৎপর্যপূর্ণ?

বিজেপি যখন বারবার বঙ্গে ‘হিন্দুত্ব’ কার্ড ব্যবহার করার চেষ্টা করছে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার নিজস্ব আবেগ ও শ্রীচৈতন্যের ‘বৈষ্ণব ধর্ম’-কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন। সামনেই বিভিন্ন নির্বাচন বা রাজনৈতিক কর্মসূচিকে মাথায় রেখে তিনি বোঝাতে চাইছেন যে, বাংলার মাটি দাঙ্গা বা বিভাজনের নয়, বরং শ্রীচৈতন্যের দেখানো ভালোবাসার পথ। তূণমূল নেত্রী বরাবরই নিজেকে বাংলার সংস্কৃতি ও কৃষ্টির রক্ষাকর্তা হিসেবে তুলে ধরেন। এই পোস্টটিও সেই কৌশলেরই অংশ।

পূর্ণতিথিতে মুখ্যমন্ত্রী আরও লিখছেন, ‘শ্রীচৈতন্যদেবের জীবন ও তাঁর মানবতার আদর্শ বিগত ৫০০ বছর ধরে আমাদের পথ দেখাচ্ছে, উদ্বুদ্ধ করে চলেছে। মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা ধনী-দরিদ্র, বিদ্বান-মূর্খ, জাতি-বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে আপামর জনসাধারণকে একত্র করেছিল। তাদের প্রেমের শৃঙ্খলে বেঁধে, এক সাম্য ও ঐক্যের পথ দেখিয়েছিল যার পরিণতি বাংলার নবজাগরণ।’ আর তাই মহাপ্রভুর ধর্ম মানে যে মানবতার ধর্ম তা আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রশাসনিক প্রধান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *