নয়া রূপে সেজে উঠছে বোলপুর রেলস্টেশন …..
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত শান্তিনিকেতনের কোলঘাষা রেলস্টেশন বোলপুর আধুনিকীকরণের পথে এগোচ্ছে । ভারত সরকারের রেলমন্ত্রকের “অমৃত ভারত স্টেশন” প্রকল্পের অধীনে ঐতিহ্যবাহী এই রেলস্টেশনের সম্পূর্ণভাবে ভোল পাল্টে দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রক স্টেশন আধুনিকীকরণের জন্য প্রায় ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে । স্টেশনের বিল্ডিং তে শান্তিনিকেতনে শিল্প সংস্কৃতির আদলে ঢেলে সাজানো হচ্ছে ।
রেল সূত্রের খবর গোটা দেশের একাধিক রেল স্টেশন কে আধুনিকীকরণ করার জন্য অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের একাধিক স্টেশনের পাশাপাশি বোলপুর ও অন্যতম । রেল যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দের কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী বোলপুর স্টেশনে শান্তিনিকেতনের ভাবধারার আদলে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে রেল। বয়স্ক এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের সুবিধার জন্য থাকছে নতুন লিফট এবং এসকালেটার এবং হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য থাকছে নীচু উচ্চতার টিকিট কাউন্টার । এছাড়া দৃষ্টিহীন মানুষদের জন্য বিশেষ খাজকাটা রাস্তা করছে রেল, যাতে স্টেশনে চলাচলের পথে তাদের কোন রকম অসুবিধা না হয় । স্টেশনের এক প্লাটফর্ম থেকে অন্য প্লাটফর্মে যাওয়ার জন্য থাকছে আধুনিক ওভার ব্রিজ।
স্মার্ট কানেক্টিভিটির কথা মাথায় রেখে স্টেশন চত্বরে থাকছে মোবাইল ও ল্যাপটপ চার্জিং পয়েন্ট । এছাড়া উচ্চ গতির ওয়াইফাই পরিষেবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। স্টেশনের মধ্যে থাকছে EV চার্জিং পয়েন্ট । স্টেশনে রেল যাত্রীদের পিকআপ বা ড্রপ করতে আসা ইলেকট্রিক গাড়ি গুলি চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকছে। এছাড়া যাত্রীদের জন্য ওয়াটার কুলার এবং উন্নত মানের RO বসানো হচ্ছে । টিকিট কাটার জন্য থাকছে ATVM। যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন স্বাস্থ্যসম্মত আধুনিক শৌচাগার নির্মাণ করা হচ্ছে স্টেশন চত্বরে।শান্তিনিকেতন একটি বিশ্ব বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র। এখানে যাওয়ার জন্য বোলপুর রেল স্টেশনে নামতে হয় যাত্রীদেরকে। এজন্যই স্টেশন চত্তরের মধ্যেই পর্যটকদের গাইড করার জন্য বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র খুলতে চলেছে রেল। এছাড়া স্থানীয় হস্তশিল্প সামগ্রীর প্রসারের জন্য বিশেষ স্টলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে ।
অমৃত ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে বোলপুর শান্তিনিকেতন স্টেশনের আমূল পরিবর্তন হচ্ছে তার অন্যতম লক্ষ্য হলো এটিকে একটি স্টেশনে সীমাবদ্ধ না রেখে শহরের অন্যতম প্রাণকেন্দ্ররূপে গড়ে তোলা। এই আধুনিকীকরণ সম্পন্ন হওয়ার পর স্টেশনটিকে অন্য মাত্রায় দেখা যাবে।
