বাড়িতে যেতে না চাওয়ায় চিকিৎসককে মারধর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনি ব্লকের ভাদুতলা এলাকায় এক গ্রামীণ চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, বাড়িতে গিয়ে রোগী না দেখায় তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। আহত ওই চিকিৎসকের নাম শ্রীকুমার ঘোষ। বর্তমানে তিনি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাদুতলার বাসিন্দা লীলা চক্রবর্তী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন তাঁর ছেলে চন্দন চক্রবর্তী এলাকার পরিচিত গ্রামীণ চিকিৎসক শ্রীকুমার ঘোষের চেম্বারে গিয়ে মাকে বাড়িতে এসে দেখার অনুরোধ করেন। কিন্তু চিকিৎসক জানান, তিনি এখন আর বাড়ি গিয়ে রোগী দেখেন না। বয়সজনিত সমস্যা ও কোভিডের পর থেকে শারীরিক অসুবিধার কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি রোগীকে চেম্বারে নিয়ে আসতে বলেন।
অভিযোগ, এতে চন্দন চক্রবর্তী ক্ষুব্ধ হন। তিনি একাধিকবার চিকিৎসকের কাছে গিয়ে অনুরোধ করেন। পরে বিষয়টি তাঁর আত্মীয় তথা কর্ণগড় অঞ্চলের তৃণমূলের এক স্থানীয় নেতার কাছে জানান। অভিযোগ, ওই নেতা চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়ে তাঁকে কড়া ভাষায় কথা বলেন। এরপর জোর করে তাঁকে রোগীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। চিকিৎসকের পরিবারের দাবি, তাঁকে ধাক্কাধাক্কি করা হয় এবং তাঁর স্ত্রীকেও অপমান করা হয়। ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অন্যদিকে অভিযুক্তের দাবি, মারধরের ঘটনা ঘটেনি। তাঁরা শুধু চিকিৎসককে অনুরোধ করেছিলেন বাড়িতে গিয়ে রোগী দেখতে। তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে স্বীকার করেছেন।
শালবনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এলাকায় এই ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, একজন চিকিৎসক যদি ব্যক্তিগত বা শারীরিক কারণে বাড়িতে না যেতে চান, তাহলে তাঁকে জোর করা বা মারধর করা কখনওই ঠিক নয়। এই ঘটনা গ্রামীণ চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং চিকিৎসক মহলেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
