আজকের দিনেবাংলার আয়না

সমকামিতার কারণে বাড়ছে HIV সংক্রমণ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- জেলাজুড়ে হঠাৎ করে এইচআইভি সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক তথ্য হলো তার মধ্যে একটি বড় অংশ বর্ধমান শহরের বাসিন্দা। জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দফরের সাম্প্রতিক তথ্যে জানা গেছে, সমকামিতা বা ভিন্ন যৌন চাহিদার কারণে শহরের ৩০ জন উচ্চ শিক্ষিত যুবক এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

সোমবার দফরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় সাংবাদিকদের বলেন, “জেলায় বর্তমানে প্রায় ৯০ জন এইচআইভি পজিটিভ রয়েছেন। তার মধ্যে খোদ বর্ধমান শহরের সংখ্যা ৩০। সবাই যুবক, উচ্চ শিক্ষিত এবং অভিজাত পরিবারের। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণের কারণেই আচমকা এই মারণ ভাইরাসের প্রকোপ বেড়েছে।”
তাঁর কথায়, সাধারণভাবে আমরা নিয়মিত সচেতনতা তৈরির প্রচেষ্টা চালাই। যেখানে যৌনপল্লি বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মানুষ বেশি থাকে, সেখানে সচেতনতা অভিযান চালানো হয়। কিন্তু এই বছর কিছুটা ভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এইচআইভি সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার পেছনে সমকামিতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য দফর।

সুন্দরভাবে পরিস্থিতি নজরে আসে এমনভাবেই—সম্প্রতি এক যুবক দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বিভিন্ন মেডিক্যাল টেস্ট করান। তার মধ্যে ছিল এইচআইভি টেস্টও। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, তিনি এইচআইভি পজিটিভ। এরপর ওই যুবকের ঘনিষ্ঠমহলে থাকা অন্যান্য যুবকদেরও টেস্ট করানো হয়। ধাপে ধাপে জানা যায়, আরও যুবক আক্রান্ত। স্বাস্থ্য দফর মনে করছে, এর পেছনে সম্ভবত একটি যৌনচক্র কাজ করছে, যা সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে।

তবে স্বাস্থ্য দফর ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিশ্বনাথ রায় জানান, আক্রান্ত যুবকদের পরিচয় গোপন রেখে তাদের সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কিছু এলাকায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে, কিন্তু পুরো পরিস্থিতি সতর্কতার দাবী রাখছে। তিনি আরও বলেন, এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধযোগ্য। নিরাপদ যৌন আচরণ, নিয়মিত টেস্ট এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমেই এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

তথ্যগুলো দেখাচ্ছে যে, শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সতর্কতা নয়, সামাজিক সচেতনতা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়েও এই রোগের বিস্তারকে প্রতিরোধ করা সম্ভব। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে, সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে, বিশেষ করে শহরের যুব সমাজের

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *