আজকের দিনেবাংলার আয়না

১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর যাত্রীবাহী বাস উল্টে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখোমুখি হলেন যাত্রীরা। মেদিনীপুর থেকে দিঘাগামী ওই বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে খড়্গপুরের চাঙ্গুয়াল এলাকার কাছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে এক মহিলার। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন যাত্রী। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ১০ জনকে ইতিমধ্যেই মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর থেকে দিঘা যাওয়ার পথে শনিবার ওই যাত্রীবাহী বাসটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলছিল। ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে সামনে থাকা একটি গাড়িকে ওভারটেক করার চেষ্টা করছিল বাসটি। সেই সময় আচমকাই চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং বাসটি রাস্তার উপর উল্টে যায়। দুর্ঘটনার তীব্রতায় যাত্রীরা বাসের ভিতর ছিটকে পড়ে গুরুতরভাবে আহত হন।

এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। আহতদের একে একে বাস থেকে বের করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার জেরে কিছুক্ষণের জন্য জাতীয় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বাসটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছিল এবং ওভারটেক করতে গিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই বাসে কোনও পর্যটক ছিলেন না। বাসটিতে মূলত নিত্যযাত্রীদেরই যাতায়াত ছিল। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বাস চালকের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর কয়েক মাস আগেই দিঘা যাওয়ার পথে আরও একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় চার পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল। সেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল আসানসোলের করুণাময়ী হাউসিং কলোনি সংলগ্ন এলাকায়। শনিবার ভোরে খড়্গপুরের বেলদা সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া সেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান আসানসোলের চার বাসিন্দা।

জানা যায়, ওই চারজন একটি কালো স্করপিও গাড়িতে করে দিঘার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ তাঁরা আসানসোল থেকে বের হন। বেলদার কাছে এসে তাঁদের গাড়িটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় একটি ট্রাকের। সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চারজনের।

পরপর এমন দুর্ঘটনায় ফের একবার জাতীয় সড়কে যানবাহনের গতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দ্রুতগতিতে ওভারটেক করার প্রবণতাই বারবার এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচলতি মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *