ফের ভূমিকম্প
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- মধ্যরাত থেকে শুরু করে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত উত্তর ভারতের বড় অংশ ভূমিকম্পের দাপটে কেঁপে ওঠে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৯ মিনিটে প্রথম কম্পনটি সিকিমে অনুভূত হয়। মাত্র ছয় মিনিটের মধ্যেই ফের কেঁপে ওঠে গ্যাংটক সংলগ্ন এলাকা। এরপর থেকে সিকিমের একাধিক অঞ্চলের মাটি বারবার কেঁপে উঠেছে।
সিকিমের গালসিং থেকে শুরু হওয়া এই কম্পনের উৎসভূমি ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে এবং রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.৫। কম্পনের পরপরই গ্যাংটক, মঙ্গন, নামচি ও সিকিমের অন্যান্য এলাকায় কয়েকবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার ভোর পর্যন্ত সিকিমে মোট ১২ বার আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে, যদিও প্রথম কম্পনের মতো তীব্রতা আর কোনোটিতে ছিল না। সিকিম থেকে এখনও পর্যন্ত কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এছাড়া, সিকিমের কম্পনের প্রভাব শুধু রাজ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৭টা ৩২ মিনিটে উত্তরপ্রদেশের গোন্ডায় ৩.৭ রিখটার স্কেলে কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর ১৬ মিনিটের মধ্যে উত্তরাখণ্ডের বাগেশ্বরেও ৩.৪ মাত্রার কম্পন ঘটেছে। এর পাশাপাশি সীমান্তবর্তী তিব্বত এবং চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলেও কম্পন লক্ষ্য করা গেছে। তবে এই কম্পনগুলোর তীব্রতা মারাত্মক ছিল না।
উল্লেখযোগ্য, এই সপ্তাহে আরও এক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল কলকাতা। মঙ্গলবার রাত ৯টা ৫ মিনিটে কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা প্রায় ১৫ সেকেন্ড ধরে কম্পন অনুভব করে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, এই কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬.৪। কম্পনের উৎসস্থল মায়ানমার, ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে এবং আকিয়াব শহর থেকে ৭০ মাইল দূরে। বৃহস্পতিবারও মায়ানমারের কিছু অংশে কম্পন অনুভূত হয়।
পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায়, উত্তর ভারত ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রভাব সময়ে সময়ে অনুভূত হচ্ছে, তবে এই পর্যায়ে কোন বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন এবং ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।
