AI : এআই–রোবোকপের ফাঁদে ‘হড়পা শিব’ !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বিশাখাপত্তনম রেল স্টেশনে এআই–চালিত রোবোকপের সাহায্যে দুই কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে পাকড়াও করে বড় সাফল্য পেল রেল সুরক্ষা বাহিনী। সোমবার দুপুরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ধৃত দু’জন হল কুখ্যাত অপরাধী ‘হড়পা শিব’ এবং তার সহযোগী বাঙ্গারু। দু’জনের বিরুদ্ধেই খুন, ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরির একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনার সময় বিশাখাপত্তনম রেল স্টেশনের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে ছিলেন আরপিএফের হেড কনস্টেবল বিএস নারায়ণ। আচমকাই স্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সংযুক্ত অ্যালার্ট সিস্টেম সক্রিয় হয়ে ওঠে। লাইভ ফিড বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, স্টেশন চত্বরে সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই ওয়ালটার ডিভিশনের ক্রাইম প্রিভেনশন ডিটেকশন স্কোয়াডকে সতর্ক করা হয়।
এরপর বিশাখাপত্তনম স্টেশনের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব–ইনস্পেক্টরের সঙ্গে নিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় অভিযান চালান বিএস নারায়ণ। যাত্রীদের ভিড়ের মধ্যেই অর্ধেক মুখ গামছায় ঢাকা অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিল দু’জন। সন্দেহ আরও জোরালো হওয়ায় মুখের আড়াল সরাতে বলা হলে দু’জন পালানোর চেষ্টা করে। তবে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা রেলরক্ষীরা দ্রুত তাদের পাকড়াও করে।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধৃতরা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করে। তখনই জানা যায়, তারা কুখ্যাত দুষ্কৃতী হড়পা শিব ও বাঙ্গারু। দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় পুলিশ তাদের খোঁজ করছিল। আশ্চর্যের বিষয়, স্টেশনে উপস্থিত থাকলেও তাদের কাছে কোনও বৈধ ট্রেনের টিকিট ছিল না। পরে দু’জনকেই রেল পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এই গোটা ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে রেলের এআই–চালিত রোবোকপ ‘অর্জুন’। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, অর্জুনের পদ ‘অ্যাসিস্ট্যান্ট সিকিউরিটি কমিশনার’। তবে সে কোনও মানুষ নয়, সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর রোবট। ইস্ট কোস্ট রেলওয়ে জ়োনের বিশাখাপত্তনম স্টেশনে মোতায়েন এই রোবট পুলিশের ডেটাবেসে পুলিশের খাতায় নাম থাকা বহু দাগি অপরাধীর তথ্য আগে থেকেই সংরক্ষিত ছিল।
স্টেশন চত্বরে টহল দেওয়ার সময় অর্জুন তার উন্নত ‘ফেসিয়াল রেকগনিশন সিস্টেম’-এর মাধ্যমে যাত্রীদের মুখের ছবি রিয়েল টাইমে বিশ্লেষণ করে। সেই বিশ্লেষণ হড়পা শিব ও বাঙ্গারুর সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে মিলে যেতেই কন্ট্রোল রুমে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। তার পরেই দ্রুত পদক্ষেপ নেয় রেল সুরক্ষা বাহিনী।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীর যাতায়াতের কারণে ব্যস্ত স্টেশনগুলিতে কেবলমাত্র মানবশক্তির মাধ্যমে নজরদারি চালানো সব সময় সম্ভব নয়। সেখানে এআই নির্ভর প্রযুক্তি অনেক বেশি কার্যকর ও নির্ভুল। এই ঘটনার সাফল্যের পর দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে রোবোকপ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া, শিয়ালদহ এবং নিউ জলপাইগুড়ির মতো ব্যস্ত স্টেশনও।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রবিবার ২০২৬–’২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশের সময় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছিলেন, রেলের নিরাপত্তা ও যাত্রী সুরক্ষাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই খাতে অর্থ বরাদ্দে কোনওরকম কাটছাঁট করা হবে না। বাজেট ঘোষণার পরের দিনই এআই প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগে এই সাফল্য রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন মাত্রা দিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
