মাধ্যমিক দিতে গিয়ে দুর্ঘটনা, হাসপাতালে শুয়েই পরীক্ষা পড়ুয়ার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথেই বিপত্তি। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালের শয্যাতেই বসে পরীক্ষা দিতে হল এক পরীক্ষার্থীকে। মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে ধূপগুড়ির চালসা এলাকায়।
মঙ্গলবার চালসা মেটেলি রাজ্য সড়কের চালসা রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় একটি টোটো দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। জানা গিয়েছে, মেটেলি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী অনন্যা তালুকদার ও মৃত্তিকা মজুমদার তাঁদের অভিভাবকদের সঙ্গে টোটোতে করে মেটেলি থেকে চালসা গয়ানাথ বিদ্যাপীঠে মাধ্যমিক পরীক্ষার কেন্দ্রে যাচ্ছিল। চালসা রেলগেটের কাছে পৌঁছনোর সময় হঠাৎই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে টোটোটি উল্টে যায়।
এই দুর্ঘটনায় শুধু দুই পরীক্ষার্থী নয়, টোটোতে থাকা সকলেই জখম হন। তবে অনন্যা তালুকদারের তুলনায় মৃত্তিকা মজুমদারের আঘাত ছিল অনেক বেশি গুরুতর। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে আহতদের দ্রুত চালসার মঙ্গলবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছয় মেটেলি থানার পুলিশ।
অন্যদিকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মাধ্যমিক পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্তব্যরত আধিকারিকরাও হাসপাতালে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে আহতদের পরিবারের সদস্যরাও হাসপাতালে পৌঁছন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অনন্যা তালুকদারকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর সে চালসা গয়ানাথ বিদ্যাপীঠে গিয়ে নির্ধারিত পরীক্ষায় বসে। কিন্তু মৃত্তিকা মজুমদারের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয় এবং চলতে থাকে চিকিৎসা। তবে পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের নির্দেশ অনুযায়ী হাসপাতালেই মৃত্তিকার পরীক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতালের একটি নির্দিষ্ট কক্ষে পরীক্ষার খাতা-কলম নিয়ে সে পরীক্ষা দেয়।
মেটেলির বিদ্যালয় পরিদর্শক বিজয় চন্দ্র রায় বলেন, “মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের নির্দেশ মেনেই আমরা হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি।”
এই মানবিক উদ্যোগে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন মৃত্তিকার অভিভাবকেরা। তাঁরা পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সরকারি আধিকারিকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
