আজকের দিনেতিলোত্তমা

চিংড়িঘাটা ছাড়পত্রে বিলম্ব, মেট্রো শেষ হতে ২০২৮

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- নিউ গড়িয়া থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত মেট্রোপথের পুরো প্রকল্পটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছতে ব্যর্থ হচ্ছে। মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার শুভ্রাংশুশেখর মিশ্র জানিয়েছেন, চিংড়িঘাটা এলাকায় কাজ করার ছাড়পত্র না পাওয়ায় প্রকল্পের কাজ তিন মাসের বেশি সময় ধরে আটকে রয়েছে। এই কারণে, পূর্বে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিলো এই প্রকল্প, তা এখন ২০২৮ সালের মাঝামুখে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মেট্রোর প্রশাসন জানিয়েছে, নোয়াপাড়া থেকে বারাসত পর্যন্ত মেট্রো লাইনটির কাজ আপাতত মাইকেলনগর পর্যন্ত শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাইকেলনগর থেকে বারাসত পর্যন্ত লাইনের কাজ মাটির তলা দিয়ে করতে হবে, যা খরচ অনেক বৃদ্ধি করবে। তাই এ সংক্রান্ত ছাড়পত্র রেলবোর্ডের কাছে পাঠানো হয়েছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও বাজেট বক্তৃতায় জানিয়েছেন, রাজ্যের অনুমতি মিললেই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার জন্য অর্থ সরবরাহে কোনও সমস্যা হবে না। তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০১৪ সালের আগে ২৭ কিলোমিটার মেট্রোর পথ নির্মিত ছিল, এবং গত ১১ বছরে আরও ৪৫ কিলোমিটার নতুন লাইন যুক্ত হয়েছে।

মেট্রোর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা গেছে, কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনের নির্মাণকাজ আগামী এপ্রিল-মে মাস নাগাদ শুরু হবে। স্টেশনের নকশা অনুযায়ী, পূর্বে দুটি প্ল্যাটফর্ম এক ছাউনি-অন্তর্গত থাকত, কিন্তু নতুন পরিকল্পনায় দুটি প্ল্যাটফর্মের ছাউনিকে পৃথক করা হয়েছে।

অর্থ বরাদ্দের দিক থেকেও প্রকল্পে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। অরেঞ্জ লাইন বা নিউ গড়িয়া–এয়ারপোর্ট লাইনের জন্য ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বরাদ্দ করা হয়েছে ৭০৫.৫০ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ১৫ কোটি কম। জোকা–এসপ্ল্যানেড প্রকল্প বা পার্পল লাইনের জন্য বরাদ্দ ৯০৬.৬০ কোটি টাকা, যা ৯১৪ কোটি টাকার চেয়ে সামান্য কম। ইস্ট–ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্প বা গ্রিন লাইনের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৫২৯ কোটি টাকা, যা গত বছরের ৫০০ কোটি টাকার তুলনায় কিছুটা বেশি।

মেট্রোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু নিউ গড়িয়া–এয়ারপোর্ট লাইনই নয়, জোকা–এসপ্ল্যানেড প্রকল্পের কাজও কিছুটা থমকে আছে। বিধান মার্কেট সরানোর অনুমতি না মেলায় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। একই কারণে একাধিক প্রকল্পের গতি ধীর হয়ে যাচ্ছে, এবং এই বিষয়গুলোই সম্ভবত বাজেটে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে।
পরিকল্পনাকারীরা আশা করছেন, রাজ্যের অনুমতি এবং প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র মিলে গেলে, ২০২৮ সালের মাঝামাঝি সময় নাগাদ নিউ গড়িয়া–এয়ারপোর্ট মেট্রো সম্পূর্ণ চালু হবে। এভাবে, শহরের মানুষের যাতায়াত সুবিধা আরও বেগবান হবে এবং কলকাতার মেট্রো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *