১৮ বছর পর খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ১৮ বছর আগের একটি খুনের মামলায় অবশেষে রায় দিল মুর্শিদাবাদের কান্দি মহকুমা আদালত। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্ত সার্জুল শেখকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনাল আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে জরিমানাও করা হয়েছে। এই রায়ে স্বস্তি পেয়েছে মৃতের পরিবার।
এই ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০৭ সালের ২৯ এপ্রিল। কান্দি থানার অন্তর্গত একটি এলাকায় মাঠের মধ্যে কওসর আলিকে বোমা ছুড়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর মৃতের বাবা কান্দি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্ত সার্জুল শেখকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশি তদন্তে উঠে আসে, নিহত কওসর আলির সঙ্গে অভিযুক্তের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা ছিল। সেই কারণেই পরিকল্পনা করে এই খুন করা হয় বলে অভিযোগ। তদন্ত শেষ হওয়ার পর চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ এবং শুরু হয় দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া।
মামলার শুনানিতে মোট ১৭ জন সাক্ষীর বয়ান গ্রহণ করে আদালত। সাক্ষ্যপ্রমাণ, নথিপত্র এবং তদন্তকারী আধিকারিকদের বক্তব্য খতিয়ে দেখে আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছয় যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত। সেই ভিত্তিতেই ভারতীয় দণ্ডবিধির খুন সংক্রান্ত ধারায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক জানান, এই অপরাধ অত্যন্ত গুরুতর এবং সমাজে এর কঠোর বার্তা দেওয়া প্রয়োজন। তাই অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আর্থিক জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়। জরিমানার টাকা অনাদায়ে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এই রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরে ও এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। মৃতের পরিবার জানায়, এত বছর পর হলেও তারা ন্যায়বিচার পেয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করতে পারেন।
১৮ বছর পর এই মামলার নিষ্পত্তিকে বিচার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন অনেকেই। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত আইনের মাধ্যমে সত্যের প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলেই মত আইনজ্ঞদের।
