১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান: ভারত-ইউরোপ ‘মাদার অফ অল ডিলস’ বাস্তবায়িত
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- শুল্কযুদ্ধ ও মার্কিন আগ্রাসনের আবহে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাকের ডগায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করল ভারত। মঙ্গলবার সকালে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তনিও কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনের উপস্থিতিতে চুক্তিতে সই করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এক বিরাট চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যাকে বিশ্ব ‘মাদার অফ অল ডিলস’ বলে উল্লেখ করছে। এই চুক্তি ভারত ও ইউরোপের নাগরিকদের জন্য বিপুল সুযোগ তৈরি করবে। বিশ্বের প্রধান দুই অর্থনীতির মধ্যে এই অংশীদারিত্ব গোটা বিশ্বের মোট জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশকে প্রতিনিধিত্ব করবে।”
২০০৭ সাল থেকে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এই বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। দীর্ঘ ১৮ বছরের প্রচেষ্টার পর অবশেষে বাস্তবায়িত হল এই ঐতিহাসিক সমঝোতা। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন একে ‘মাদার অফ অল ডিলস’ বলে আখ্যা দেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে এই বাণিজ্যচুক্তির খুঁটিনাটি এখনও সরকারি ভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, ১৫ হাজার ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৬ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা)-র বেশি মূল্যের আমদানিকৃত গাড়ির উপর শুল্ক উল্লেখযোগ্য ভাবে কমতে পারে। বর্তমানে ইউরোপ থেকে আমদানি করা গাড়ির উপর প্রায় ১১০ শতাংশ শুল্ক ধার্য রয়েছে, যা এই চুক্তির ফলে কমে ৪০ শতাংশের কাছাকাছি নামতে পারে। এর ফলে দেশের বাজারে বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ-বেঞ্জের মতো ইউরোপীয় ব্র্যান্ডের গাড়ি সস্তা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়াও বিদেশি ওয়াইনের উপর শুল্ক হ্রাসের সম্ভাবনার কথাও জানা যাচ্ছে। তবে এই চুক্তির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে ভারতের কৃষিক্ষেত্র। উৎপাদন, প্রযুক্তি, শক্তিসম্পদ ও ওষুধ শিল্প-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে চুক্তির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি ভেস্তে যাওয়া এবং পরবর্তী শুল্কবাণে ধাক্কা খেয়েছে ভারতের বাজার। সেই ক্ষতি সামাল দিতেই বিকল্প বাজারের দিকে নজর ঘোরাচ্ছে নয়াদিল্লি। অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইউরোপের টানাপোড়েনও বাড়ছে। এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই ভারত-ইউরোপ ঘনিষ্ঠতা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
