হনুমানের হামলায় জখম শিশু-সহ ৪
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ফের হনুমানের তাণ্ডবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে ঘাটালের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আড়গোড়া এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হনুমানের হামলায় এক শিশু-সহ চার জন গুরুতর জখম হয়েছেন। আহতরা বর্তমানে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আট থেকে ১০টি হনুমানের একটি দল এলাকায় ঘাঁটি গেড়েছে। তারা সারাদিন রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এবং যখন তখন পথচলতি মানুষজনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এক দিনে ১০ থেকে ১২ জন হনুমানের আঁচড়ে জখম হচ্ছেন। চার জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। ভয়ের কারণে অনেক বাসিন্দা এখন লাঠি হাতে নিয়ে বাড়ির বাইরে বেরোচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা তনুশ্রী বেরা ও কৃষ্ণকলি অধিকারীর কথায়,“হনুমানের জ্বালায় বাড়ির বাইরে বেরোতেই ভয় লাগছে। আচমকা হামলা চালাচ্ছে। আমরা ভয়ে লাঠি নিয়ে বেরোচ্ছি।”
আর এক বাসিন্দা সাহেব মাইতি বলেন,
“বন দপ্তর যদি হনুমান কাবু করতে না পারে, তাহলে আমরা কীভাবে নিজেদের বাঁচাব?”
ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার আড়গোড়া এলাকায় যান বন দপ্তরের ঘাটাল রেঞ্জের রেঞ্জার রতন সরকারের নেতৃত্বে একটি দল। তাঁদের উপস্থিতিতে ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাস্তায় খাঁচা পাতা হয় এবং টোপ দেওয়া হলেও হনুমানগুলোকে ধরা সম্ভব হয়নি।
ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের একাংশ বনকর্মীদের ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। পরে রেঞ্জার তাঁদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ বিষয়ে রেঞ্জার রতন সরকার বলেন,
“সাত-আট দিন ধরে হামলা চললে মানুষের ক্ষোভ হওয়াই স্বাভাবিক। আমরা ট্রাঙ্কুইলাইজ় করার টিম এনে আগে যে হনুমানটি বেশি আক্রমণ করছে তাকে ধরার চেষ্টা করব। কেন এই হনুমানের দল আচমকা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে দ্রুত এই দলটিকে অন্যত্র সরানোর জন্য সবরকম চেষ্টা চলছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
