সুরুলিয়ায় আসছে হিংস্র অতিথি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বাঘিনি জিনাতের আচমকা উপস্থিতি জঙ্গলমহলে যে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিল, তার রেশ এখনও কাটেনি। ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা ঘুরে বাংলায় ঢুকে পড়া জিনাত টানা ১২ দিন ধরে জঙ্গলমহলের বনবাদাড়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছিল। কাঁপানো শীতের মধ্যেও বনকর্তাদের কালঘাম ছুটিয়ে দিয়েছিল সেই অভিযান। শেষ পর্যন্ত ঘুম পাড়ানি গুলিতে জিনাতকে জব্দ করে ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্পে ফেরত পাঠানো হয়।
তবে ১৪ মাসের ব্যবধানে ফের জঙ্গলমহলে বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে বন দফতর। এবার বাঘিনি নয়, পুরুলিয়ার সুরুলিয়া মিনি চিড়িয়াখানায় নতুন অতিথি হিসেবে আনার প্রস্তুতি চলছে একজোড়া চিতাবাঘ ও একটি ধূসর নেকড়ে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে জঙ্গলমহলের পর্যটন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ মানচিত্রে সুরুলিয়ার গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই এই উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি পর্ব শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ওয়েস্ট বেঙ্গল জু অথরিটির একটি প্রতিনিধিদল টানা দু’দিন ধরে সুরুলিয়া মিনি চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করে। চিড়িয়াখানার বিদ্যমান পরিকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রাণীদের রাখার উপযোগিতা এবং পরিবেশগত দিকগুলি খতিয়ে দেখা হয়। বিশেষ করে চিতাবাঘ রাখার জন্য নির্ধারিত খাঁচা ও প্রস্তাবিত এনক্লোজারের গঠন, উচ্চতা, আয়তন এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
পরিদর্শন শেষে জু অথরিটির তরফে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে খাঁচার উচ্চতা ও পরিসর বৃদ্ধি, প্রাণীদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য পর্যাপ্ত সবুজায়ন, স্থায়ী পানীয় জলের ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ছায়াযুক্ত এলাকা তৈরি এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার সংযোজন। সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন সংক্রান্ত নির্দেশিকাও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, এই পরিবর্তনগুলি বাস্তবায়িত হলে শুধু প্রাণীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যই নিশ্চিত হবে না, দর্শনার্থীদের সুরক্ষার বিষয়টিও আরও মজবুত হবে। সুরুলিয়া মিনি চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওয়েস্ট বেঙ্গল জু অথরিটির সমস্ত নির্দেশিকা ও বিধিনিষেধ মেনেই দ্রুত প্রস্তাবিত উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করা হবে। সবুজে ঘেরা, প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বন্যপ্রাণীদের রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।
বর্তমানে সুরুলিয়া মিনি চিড়িয়াখানায় ১৩টি ভিন্ন প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৬৫ হাজার পর্যটক এখানে ঘুরতে আসেন বলে চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গিয়েছে। নতুন করে চিতাবাঘ ও ধূসর নেকড়ে যুক্ত হলে দর্শনার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়বে বলেই আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। এতে শুধু চিড়িয়াখানার আকর্ষণই নয়, গোটা পুরুলিয়া জেলার পর্যটন সম্ভাবনাও নতুন মাত্রা পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের এক আধিকারিক বলেন, “নতুন বন্যপ্রাণী এলে সুরুলিয়া চিড়িয়াখানার গুরুত্ব অনেকটাই বাড়বে। এর প্রভাব পড়বে গোটা অঞ্চলের পর্যটন মানচিত্রে।” পর্যটনের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা, পরিবহণ পরিষেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে বলে আশা প্রশাসনের। ফলে এই উদ্যোগ পুরুলিয়া জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের।
সবুজ পাহাড়, লালমাটির প্রাকৃতিক পরিবেশ আর বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি এই সমন্বয় সুরুলিয়া মিনি চিড়িয়াখানাকে জঙ্গলমহলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবে বলেই মনে করছেন বন দফতরের আধিকারিকরা।
