আজকের দিনেতিলোত্তমা

সিস্টেম ডাউন ও যাচাইকরণ বিতর্কে বাড়ছে উদ্বেগ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার শুনানি পর্ব ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতেই শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা মেনে রাত ঠিক ১২টার পর থেকেই নথি আপলোডের সুযোগ বন্ধ করে দেয় ইলেকশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া। এরপর শুরু হয় ‘ফাইনাল ডিসপোসল’ বা চূড়ান্ত নাম বাছাইয়ের ধাপ। কিন্তু এই পর্যায়েই সামনে এসেছে বড়সড় সমস্যা শেষ দিনের শুনানিতে অংশ নেওয়া ১ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নথি সিস্টেমে আপলোড করা যায়নি বলে সূত্রের দাবি।

নিয়ম অনুযায়ী শুনানি শেষ হলেই জমা পড়া নথিপত্র অনলাইনে আপলোড করতে হয়। কিন্তু শেষ দিনে যাঁরা হাজির হয়ে কাগজ জমা দিয়েছিলেন, তাঁদের উল্লেখযোগ্য অংশের তথ্য সিস্টেমে তোলা সম্ভব হয়নি। সময়ের অভাবই কি মূল কারণ, নাকি প্রযুক্তিগত ত্রুটি তা নিয়ে কমিশন ও প্রশাসনের অন্দরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। একাংশ জেলা শাসক কমিশনের সিস্টেম নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন, কারণ শেষ পর্যন্ত ভোটারদের কাছে জবাবদিহি তাঁদেরই করতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। রাজ্যের সিইও দফতরের প্রধান মনোজ আগারওয়ালের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। ঠিক কত জন ভোটারের নথি আপলোড হয়নি, তা জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি জানতে চাওয়া হয়েছে এটি নিছক সময়ের ঘাটতি, নাকি গাফিলতির ফল।
বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য বলছে, সমস্যাটি বিচ্ছিন্ন নয়। বড় জেলাগুলিতে সংখ্যাটা বেশি কোথাও পাঁচ হাজারের বেশি, আবার কোথাও প্রায় পাঁচশো ভোটারের নথি সিস্টেমে ওঠেনি। ফলে ফাইনাল ডিসপোসল পর্বে তাঁদের নামের ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এদিকে আরও অভিযোগ, সোমবার রাত থেকে বারবার সিস্টেম ডাউন হচ্ছে এবং মঙ্গলবার সকালেও একই সমস্যা চলেছে। ফলে এসআইআর-এর কাজ করতে সমস্যায় পড়ছেন আধিকারিকরা।

অন্যদিকে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে যাচাইকরণ পদ্ধতি ঘিরে। অভিযোগ, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় নাম তালিকাভুক্ত করার সময় সিস্টেম বারবার তথ্য ‘নিশ্চিত’ করতে বলছে। কেন নির্দিষ্ট কিছু নামের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা দেখানো হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এখন নজর কমিশনের উপর। বিএলও, এইআরও ও ডিইও-দের রিপোর্ট সংগ্রহ করে ওয়েস্ট বেঙ্গলের সিইও দফতর কী ব্যাখ্যা পাঠায়, তার উপর নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে সমস্যার সমাধান না হলে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিয়েই নতুন বিতর্ক তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *