শুরু ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- নতুন বইয়ের গন্ধে আজ থেকে মুখরিত করুণাময়ী চত্বর। সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে শুরু হচ্ছে ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। এবছর বইমেলার থিম দেশ আর্জেন্টিনা।
আজ বিকেল চারটেয় ঘণ্টাধ্বনির মাধ্যমে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে সাধারণ পাঠকদের জন্য খুলে যাবে মেলার দরজা।
গত বছর বইমেলায় প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়েছিল। এবছর সেই রেকর্ড ভাঙতে পারে বলেই আশাবাদী আয়োজক পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড। সম্ভাব্য ভিড় সামাল দিতে শুরু থেকেই তৎপর বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ দুটিই এবার অগ্রাধিকার।
মেলাপ্রাঙ্গণে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। সকাল থেকেই একের পর এক ট্রাকে বই ঢুকছে। প্রায় সম্পূর্ণ স্টল সাজানোর কাজ, অনেক প্রকাশক ইতিমধ্যেই বই সাজাতে শুরু করেছেন। উন্নত মেট্রো সংযোগ, বিশেষ করে হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে সরাসরি যাতায়াতের সুবিধায় এবছর রেকর্ড ভিড়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছে পুলিশের ছ’টি বিশেষ বাহিনী। পুরো মেলাপ্রাঙ্গণ সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে থাকবে। সাদা পোশাকের পুলিশ, অ্যান্টি-ক্রাইম ইউনিট, নাইট গার্ড, ই-স্কুটার টিমসহ একাধিক বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে। হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী থাকবেন বলে জানিয়েছেন বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুকেশ।
২০২৭ সালে কলকাতা বইমেলার সুবর্ণজয়ন্তী। সেই কারণে এবছর প্রাক-সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ হিসেবে বইমেলাকে ঘিরে বাড়তি আবেগ। ছোট-বড় মিলিয়ে হাজারেরও বেশি স্টল হয়েছে। অংশ নিচ্ছে বিশ্বের ২১টি দেশ আন্তর্জাতিক চরিত্র আরও একবার স্পষ্ট।
গিল্ডের সভাপতি সুধাংশুশেখর দে বলেন, “গত ৪৯ বছরে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বইমেলার স্থায়ী ঠিকানা যা মুখ্যমন্ত্রীর সৌজন্যে সম্ভব হয়েছে।”
গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় জানান, উদ্বোধনের দিন ৩, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর গেট নিয়ন্ত্রিত থাকবে। সন্ধ্যার মধ্যেই পাঠকদের ঢল নামবে বলে তাঁদের আশা।
এবছরও কলকাতা বইমেলায় অংশ নিচ্ছেন না বাংলাদেশের প্রকাশকরা। ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না মেলায় দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন থাকছে না। তবে পৃথক স্টলে বাংলাদেশি বই থাকলে তাতে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে গিল্ড। বাজেট সমস্যার কারণে অংশ নিচ্ছে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও। তবে এই প্রথমবার বইমেলায় যোগ দিচ্ছে ইউক্রেন, এবং ১৫ বছর পরে ফিরছে চীনের প্যাভিলিয়ন।
সব মিলিয়ে বই, পাঠক ও আবেগ এই তিনের মিলনেই শুরু হল ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার নতুন অধ্যায়।
