যৌনপল্লিতে ফাঁদ পেতে অনলাইনে লুঠ, গ্রেফতার ৩
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- যৌনপল্লিতে জোর করে আটকে রেখে অনলাইনে টাকা লুঠের অভিযোগে তিন মহিলাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম পম্পা দাস, প্রিয়াঙ্কা দাস ও দীপা দাস। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত তিনজনই যৌনকর্মী বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কলকাতার সোনাগাছি এলাকায়।
অভিযোগকারী যুবক বড়তলা থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানান, তিনি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ওই তিন মহিলা তাঁকে জোর করে একটি ঘরের ভিতর নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে টাকা দিতে বলা হয়। যুবক জানান, তাঁর কাছে তেমন টাকা নেই। সেই কথা শুনেই তাঁকে মারধর করা শুরু হয় বলে অভিযোগ।
শুধু মারধরই নয়, ওই যুবককে ব্ল্যাকমেলও করা হয়। অভিযোগ, ধৃত মহিলারা তাঁকে ভয় দেখায় যে, তাঁর বাড়িতে ভিডিও কল করে জানিয়ে দেওয়া হবে যে তিনি যৌনপল্লিতে রয়েছেন। সামাজিক সম্মান নষ্ট হওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁকে অনলাইনে টাকা দিতে চাপ দেওয়া হয়। এমনকি অভিযোগকারীর কাছ থেকে পিন নম্বর পর্যন্ত জেনে নেওয়া হয় বলে দাবি।
এরপর ধাপে ধাপে যুবকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে নিজেদের অ্যাকাউন্টে মোট ৮৯ হাজার টাকা ট্রান্সফার করে নেয় ওই তিন মহিলা। কোনওরকমে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে যুবক বড়তলা থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরই ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। অভিযোগকারী যুবককে সঙ্গে নিয়ে তদন্তকারীরা সোনাগাছিতে অভিযান চালান। যে ঘরে এই ঘটনা ঘটে, সেখানে গিয়ে প্রথমে ঘরটি এবং পরে অভিযুক্ত তিন মহিলাকে শনাক্ত করা হয়। এরপরই পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, সোনাগাছি এলাকায় এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও একই কায়দায় প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ফলে ধৃত তিন মহিলা এর আগে একইভাবে আরও কাউকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্হানীয় প্রশাসণ।
