মালিকের অপেক্ষায় বারান্দায় দিন গুনেছিল আহ ওয়াং, মনে করাল ‘হাচিকো’র গল্প
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- প্রায় দশ বছর ধরে তরুণ গাওয়ের ছায়াসঙ্গী ছিল তাঁর আদরের পোষ্য কুকুর আহ ওয়াং। চিনের সাংহাইয়ের বাওশান এলাকায় একাই থাকতেন গাও। গত বছর ডিসেম্বর মাসে অসুস্থতার কারণে হঠাৎই মৃত্যু হয় তাঁর। কিন্তু মালিকের এই চিরবিদায় মেনে নিতে পারেনি আহ ওয়াং।
গাওয়ের মৃত্যুর পর থেকে প্রতিদিন বাড়ির বারান্দায় বসে মালিকের ফেরার অপেক্ষা করত ওয়াং—যেন কোনও একদিন দরজা খুলে আবার ফিরে আসবেন তিনি। প্রতিবেশীরা খাবার, জল ও চাদর দিয়ে গেলেও খেতে চাইত না সে। শোকে ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ছিল কুকুরটি।
স্থানীয়দের দাবি, চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি আচমকাই নিরুদ্দেশ হয়ে যায় আহ ওয়াং। দু’দিন ধরে খোঁজাখুঁজির পর এলাকার এক বাসিন্দা পথকুকুরদের খাবার দিতে গিয়ে তাদের মধ্যেই ওয়াংকে দেখতে পান। ঘাসের ওপর চুপচাপ শুয়ে ছিল সে। পরে ওই প্রতিবেশীই তাকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে যান।
গাওয়ের ছেলে মাঝেমধ্যে বাবার সঙ্গে দেখা করতে এলেও, বাবার মৃত্যুর পর আহ ওয়াংয়ের দায়িত্ব নিতে তিনি অস্বীকার করেন। শেষ পর্যন্ত এক তরুণী প্রতিবেশী এগিয়ে আসেন। তিনি ওয়াংকে পোষ মানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং জানান, গাওয়ের বাড়ির কাছাকাছি থাকলে কুকুরটির মন ভালো থাকবে। বর্তমানে সেই প্রতিবেশীর বাড়িতেই রয়েছে আহ ওয়াং।
এই ঘটনা ফের মনে করিয়ে দেয় বিশ্ববিখ্যাত ‘হাচিকো’র কথা। টোকিয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিদেসাবুরো উয়েনোর পোষ্য ছিল হাচিকো। প্রতিদিন অধ্যাপকের ফেরার সময় শিবুয়া স্টেশনে অপেক্ষা করত সে। ১৯২৫ সালে অধ্যাপক মারা যাওয়ার পরও প্রায় ন’বছর ধরে একই জায়গায় একই সময়ে মালিকের অপেক্ষায় থেকেছিল হাচিকো। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষার মধ্যেই মৃত্যু হয় তার।
গাও ও আহ ওয়াংয়ের এই ঘটনা যেন আবারও প্রমাণ করে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততার কোনও ভাষা বা দেশের সীমানা নেই।
