মায়ের চক্ষুদান ঘিরে বিতর্ক, গ্রেপ্তার পরিবার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- মৃত মায়ের চক্ষুদানকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল নদিয়ার কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানা এলাকায়। কর্নিয়া বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন পুত্র, দুই কন্যা, এক পুত্রবধূ-সহ একই পরিবারের পাঁচ সদস্য। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন আমির চাঁদ, পেশায় শিক্ষক এবং এলাকায় পরিচিত সমাজকর্মী হিসেবেও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যু হয় সেনপুর শ্যামনগর পাড়ার বাসিন্দা রাবেয়া বিবির। মৃত্যুর পরেই একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা চিকিৎসক-সহ ওই বৃদ্ধার বাড়িতে এসে কর্নিয়া সংগ্রহ করে নিয়ে যান। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, মৃতদেহের কর্নিয়া বিক্রি করা হয়েছে। যদিও পরিবারের দাবি, রাবেয়া বিবি জীবিত অবস্থাতেই চক্ষুদান করার সম্মতি দিয়ে গিয়েছিলেন এবং সেই অনুযায়ী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কর্নিয়া সংগ্রহ করেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, চক্ষুদানের কোনও বৈধ নথি পরিবার দেখাতে পারেনি। এই নিয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার মানুষজন। অভিযোগ, পরিবারের বাড়িতে ঢুকে বিক্ষোভ দেখানো হয়।
এরপর কর্নিয়া চুরির অভিযোগে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ আমির চাঁদ, তাঁর দুই কন্যা ও এক পুত্রবধূকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়।
গ্রেপ্তার আমির চাঁদের দাবি, “চক্ষুদানের সমস্ত নথি আমাদের কাছে রয়েছে। তারপরও আমাদের ফাঁসানো হচ্ছে।” অন্যদিকে, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একাংশের কর্মীরা। তাঁদের দাবি, সাধারণ মানুষের মধ্যে চক্ষুদান নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর বদলে একজন সমাজকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পুলিশ অতিসক্রিয়তা দেখাচ্ছে।
পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখছে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। তদন্তের পরই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
