ময়মনসিংহে ফের নৃশংস ঘটনা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলা থেকে ফের এক মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক ঘটনার খবর সামনে এসেছে। জেলার ত্রিশাল উপজেলার বগার বাজার এলাকায় নিজের দোকানের মধ্যেই হিন্দু ব্যবসায়ী সুসেন চন্দ্র সরকারকে (৬২) কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। প্রতিদিনের মতোই ওই দিন রাতে নিজের দোকান ‘ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ’-এ একাই ছিলেন সুসেন চন্দ্র সরকার। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় চাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যবসা করতেন। স্থানীয়দের মতে, তিনি শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন এবং কারও সঙ্গে প্রকাশ্য কোনও শত্রুতার কথাও জানা যায়নি।
অভিযোগ, গভীর রাতে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী দোকানের ভিতরে ঢোকে। এরপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে ব্যবসায়ীর উপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি দোকানের মধ্যেই লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার সময় দোকানের বাইরে কেউ কিছু বুঝতে পারেননি বলেই মনে করছে পুলিশ।
রাত হয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। তাঁরা দোকানে এসে শাটার খুলে ভেতরে ঢুকে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন সুসেন চন্দ্র সরকার। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিবারের অভিযোগ, খুনের পাশাপাশি দোকান থেকে কয়েক লক্ষ টাকা লুট করে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। মৃত ব্যবসায়ীর ছেলে সুজন সরকার জানান, “বাবা সারাদিনের ব্যবসার টাকা দোকানেই রাখতেন। ঘটনার পর ক্যাশবাক্স খোলা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। টাকা নেই। বাবার সঙ্গে কারও কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। এটা পরিকল্পিত খুন ও লুট।”
এই ঘটনার খবর পেয়ে ত্রিশাল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ দোকানটি ঘিরে রেখে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একাধিক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ত্রিশাল থানার ওসি মুহাম্মদ ফিরোজ হোসেন জানিয়েছেন, এটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। তিনি বলেন, “আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি খুনের উদ্দেশ্য, লুটপাটের বিষয় এবং অভিযুক্তদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করা হবে।”
এই ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় বাড়ছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এর আগেও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ফলে ময়মনসিংহের এই ঘটনা ফের আইনশৃঙ্খলা ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
পরিবারের একটাই দাবি দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও পরিবারকে এমন মর্মান্তিক ঘটনার মুখোমুখি হতে না হয়।
