আজকের দিনেতিলোত্তমাভারত

‘ভূতুড়ে ভোটার’ ইস্যুতে কড়া নির্বাচন কমিশন

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ‘ভূতুড়ে ভোটার’ বিতর্কে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ফের কড়া অবস্থান নিল ইলেকশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব ও পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও)-কে গত বছরের অগস্টে সাসপেন্ড করা হলেও এখনও পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়নি। এই বিলম্ব নিয়ে একাধিকবার নবান্নকে সতর্ক করার পর এবার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ।

সূত্রের খবর, শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে দিল্লিতে তলব করে কমিশন জানায় মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এর আগে পাঁচ দফা নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি বলেই কমিশনের দাবি। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ প্রক্রিয়ায় বারবার আইনশৃঙ্খলার সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলেও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। তার আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি না, সে বিষয়ে মুখ্যসচিবের কাছ থেকে স্পষ্ট আশ্বাসও চেয়েছে কমিশন। পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট-২ ব্লকের বিডিও সুমিত্র প্রতীম প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে কমিশনের অনুমতি ছাড়াই ‘সার’ চলাকালীন ১১ জন অতিরিক্ত এইআরও নিয়োগ করেছিলেন তিনি। তদন্তের পর তাঁকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ হলেও সেই নির্দেশ এখনও কার্যকর হয়নি; কমিশন তা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে বিএলও, ইআরও ও এইআরওদের প্রস্তাবিত সাম্মানিক দ্রুত বরাদ্দের কথাও বলা হয়েছে।
যদিও এই বৈঠক নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি মুখ্যসচিব। তবে পরদিন জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বার্তা পৌঁছে দেন নির্ধারিত গাইডলাইন মেনেই কাজ করতে হবে।

এদিকে ‘সার’ শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে শনিবার। তার আগে ভার্চুয়াল বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক, ইআরও ও এইআরওদের সতর্ক করে বলেন, কোনও বিদেশি বা অযোগ্য ভোটারের নাম যেন চূড়ান্ত তালিকায় না থাকে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালও জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী চূড়ান্ত তালিকা তৈরির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের উপরেই থাকবে এবং ত্রুটি ধরা পড়লে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এখনও প্রায় ৫০ লক্ষ নথি আপলোড ও যাচাইয়ের কাজ বাকি রয়েছে। পরে হবে ‘সুপার স্ক্রুটিনি’ বা বিশেষ যাচাই। আপাতত ১ লক্ষ ৬৩ হাজার অযোগ্য ভোটার চিহ্নিত হয়েছে। জেলা অনুযায়ী অনুপস্থিত ভোটারের তালিকায় উত্তর ২৪ পরগনা শীর্ষে ১ লক্ষ ৩৮ হাজার। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৪৬ হাজার, দক্ষিণ কলকাতায় ২২ হাজার, উত্তর কলকাতায় ২ হাজার এবং কালিম্পংয়ে ৪৪০ জন শুনানিতে হাজির হননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *