আজকের দিনেবাংলার আয়না

ব্যাগবন্দি নবজাতক

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ব্যাগের ভেতর থেকে উদ্ধার হল এক সদ্যোজাত কন্যাশিশুর দেহ। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুর থানার অন্তর্গত নবলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ঢাকুরিয়া এলাকায়। মঙ্গলবার সকালে শিশুটির দেহ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ ঢাকুরিয়া এলাকার একটি মন্দিরের পিছনে কলাবাগানের পাশে একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। অস্বাভাবিকভাবে ব্যাগটি পড়ে থাকতে দেখে তাঁদের সন্দেহ হয়। এরপর ব্যাগ খুলে উঁকি দিতেই তাঁরা দেখতে পান, তার ভেতরে একটি সদ্যোজাত কন্যাশিশুর নিথর দেহ পড়ে রয়েছে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তড়িঘড়ি খবর পেয়ে শান্তিপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ শিশুটির দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পাশাপাশি, কে বা কারা এই শিশুটিকে এভাবে ফেলে রেখে গিয়েছে, তার তদন্ত শুরু হয়েছে।

রানাঘাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার আশিস মৈজ্য জানান, “মৃত সদ্যোজাত কন্যাশিশুর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।”

এলাকাবাসীর অনুমান, শিশুটি একেবারেই সদ্যোজাত। সম্ভবত এক বা দু’দিনের বেশি বয়স হয়নি। অনেকেরই ধারণা, কন্যাসন্তান হওয়ার কারণেই অথবা কোনও অবৈধ সম্পর্কের জেরে শিশুটিকে এইভাবে ফেলে রেখে যাওয়া হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সবাই।

স্থানীয় বাসিন্দা বাপ্পা সরকার জানান, “প্রতিদিনের মতো কয়েকজন সকালে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। তখনই কলাবাগানের পাশে ব্যাগটি চোখে পড়ে। সন্দেহ হওয়ায় খুলে দেখে শিশুটিকে পাওয়া যায়। আমরা কেউই জানি না, কে বা কারা এমন কাজ করতে পারে।”

আর এক বাসিন্দা সবিতা বিশ্বাস বলেন, “শুনে এসেছি এখানে একটা বাচ্চাকে ফেলে রেখে গেছে। দেখে বুঝলাম মেয়েশিশু। আমরা চাই পুলিশ দ্রুত খুঁজে বের করুক, কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।”

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য,এই প্রথম নয় এর আগেও শান্তিপুরের ফুলিয়া এলাকায় পরিত্যক্ত জায়গা থেকে এক সদ্যোজাত কন্যাশিশুকে উদ্ধার করা হয়েছিল। একের পর এক এই ধরনের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত ও স্তম্ভিত এলাকাবাসী। তাঁরা দাবি করছেন, দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নিক প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *