আজকের দিনেবাংলার আয়না

বেপরোয়া গাড়ির বলি ১

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- সকালবেলা ব্যস্ত সময়। অফিসযাত্রী, স্কুলপড়ুয়া, বাজারে যাওয়া মানুষ সব মিলিয়ে রাস্তায় তখন ভিড় বাড়ছে। ঠিক সেই সময়ই দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের দক্ষিণ বারাসত এলাকায় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক সাড়ে সাতটা নাগাদ একটি অটো ও একটি মোটর ভ্যানের মধ্যে শুরু হয় বেপরোয়া রেষারেষি। কে আগে যাবে, কে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছবে এই অসুস্থ প্রতিযোগিতাই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল এক নিরীহ যাত্রীর প্রাণ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অটো ও মোটর ভ্যান দু’টিই অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলছিল। রাস্তায় অন্য যানবাহন থাকা সত্ত্বেও কোনওরকম সতর্কতা ছাড়াই তারা একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করছিল। হঠাৎ করেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোটি ঝাঁকুনি খায়। সেই সময় অটোর ভিতর থাকা এক যাত্রী রাস্তায় ছিটকে পড়েন। তিনি রবীন গায়েন (৬০)।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ঠিক সেই মুহূর্তেই উল্টো দিক থেকে দ্রুত গতিতে আসছিল একটি লরি। রাস্তায় পড়ে থাকা রবীন গায়েনকে দেখে ব্রেক করার কোনও সুযোগ পাননি লরি চালক। মুহূর্তের মধ্যেই লরির চাকার নিচে পিষে যান ওই বৃদ্ধ যাত্রী। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। চারদিকে মুহূর্তের মধ্যে নেমে আসে আতঙ্ক আর চিৎকার।

এই ভয়াবহ ধাক্কায় শুধু একজনের মৃত্যু নয়, দুর্ঘটনায় অটো ও মোটর ভ্যানেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দু’টি গাড়িতেই থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতরভাবে আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথম এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠায়।

এই দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মৃত রবীন গায়েনের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং রেষারেষির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় মানুষজনের অভিযোগ, ওই এলাকায় প্রায়ই এভাবে অটো ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের মধ্যে বেপরোয়া রেষারেষি চলে। প্রশাসনের নজরদারি কম থাকার সুযোগে চালকেরা নিয়ম মানতে চান না। বারবার সতর্ক করার পরেও কোনও পরিবর্তন হয় না। মঙ্গলবারের এই দুর্ঘটনা যেন তারই করুণ পরিণতি। এই ঘটনায় ফের একবার প্রশ্ন উঠছে বেপরোয়া গতি আর দায়িত্বজ্ঞানহ বহু প্রশ্নের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *