আজকের দিনেতিলোত্তমা

বিধানসভার নতুন দায়িত্বে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিযা বাংলা : পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভায় নতুন দায়িত্ব পেলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে বিধানসভার লাইব্রেরি কমিটির সদস্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে আবাসন, অগ্নিনির্বাপণ ও বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটিতেও তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


প্রসঙ্গত, পার্থ চট্টোপাধ্যায় বর্তমানে আর রাজ্য সরকারের মন্ত্রী নন। তবে তিনি বিধানসভার নির্বাচিত সদস্য বা বিধায়ক হিসেবে তাঁর পদ ধরে রেখেছেন। বিধানসভার রীতি অনুযায়ী, কোনও মন্ত্রী সাধারণত হাউসের স্থায়ী বা স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য হতে পারেন না। মন্ত্রিত্বে থাকাকালীন সেই কারণেই পাচট্টোপাধ্যায় কোনও কমিটির সদস্য ছিলেন না। কিন্তু বর্তমানে তিনি আর মন্ত্রী নন। দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পরই তাঁকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এখন বিধায়ক হিসেবে তাঁর সামনে ফের বিধানসভা সংক্রান্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই তাঁকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে সদস্য হিসেবে স্থান দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।


রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালে গ্রেফতার করা হয়েছিল৷ ’২২ সালের জুলাই মাসে স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় পার্থকে প্রথম গ্রেফতার করেছিল ইডি। সেই থেকে তিনি জেলেই ছিলেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তল্লাশি চলে তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাটেও, যেখানে উদ্ধার হয়েছিল বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের মাসে তিনি জেল থেকে ছাড়া পেযেছেন।


দুর্নীতি মামলায় জামিন পাওয়ার পর এক সাক্ষাৎকারে পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তিনি আবার বিধানসভায় যেতে চান এবং সংসদীয় কাজকর্মে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিধানসভার দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা তাঁর রয়েছে। সেই বক্তব্যের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিধানসভায় তাঁকে কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হল, যা রাজনৈতিক মহলে আলাদা করে নজর কেড়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেদিকেও নজর রয়েছে। একদিকে শাসক শিবিরের বক্তব্য, বিধানসভার রীতি ও নিয়ম মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের একাংশ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলের ধারণা। সব মিলিয়ে, বিধায়ক হিসেবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিধানসভায় সক্রিয় ভূমিকায় ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *