আজকের দিনেতিলোত্তমা

বাড়ছে ‘মিট বোলাস’, চিন্তিত চিকিৎসক মহল

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- শনি ও রবিবারের পর সঙ্গে সোমবার সাধারণতন্ত্র দিবস নিয়ে টানা তিনদিনের ছুটিতে উৎসবের আমেজে ছিল শহর ও শহরতলি। কোথাও পিকনিক, কোথাও চড়ুইভাতি, আবার কোথাও পরিবারের সঙ্গে ছিলো জমিয়ে খাওয়াদাওয়ার প্ল্যান। কিন্তু এই আনন্দের মধ্যেই বিপাকে পড়লেন অনেকে। কারণ, সরকারি হাসপাতালের ইএনটি বিভাগগুলিতে গত দু’-তিনদিন ধরে ভিড় জমাচ্ছে এক বিশেষ সমস্যার রোগী।

এসএসকেএম হাসপাতালের ইনস্টিটিউট অফ অটো রাইনো ল্যারিঙ্গোলজি, হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকদের কাছে একের পর এক আসছেন এমন রোগী, যাঁদের গলায় মাংসের বড় টুকরো আটকে গিয়েছে। চিকিৎসা পরিভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় ‘মিট বোলাস’।

এসএসকেএম হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মৈনাক মৈত্র জানান, এই ধরনের সমস্যার মূল কারণ হলো খাবার ঠিকভাবে না চিবিয়ে গিলে ফেলা। বিশেষ করে রেড মিট বা গরু-খাসির মাংস ভালো করে না চিবোলে তা খাদ্যনালিতে আটকে যাওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে। প্রবীণদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ অনেকেরই দাঁত নেই বা দাঁতের সমস্যা রয়েছে।

সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা ঘটেছে। ছুটির দিনে পরিবারের সঙ্গে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন প্রায় সত্তরোর্ধ্ব এক ব্যক্তি। খাবারের সময় আচমকা গলায় আটকে যায় গরুর মাংসের বড় একটি টুকরো। মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। পরিবারের লোকজন বুঝতে পারেন পরিস্থিতি গুরুতর। তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএম হাসপাতালে।

ছুটির দিন হলেও চিকিৎসকরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেন। ইসোফেগাসস্কোপের সাহায্যে খাদ্যনালি থেকে বের করে আনা হয় বড় দলা পাকানো মাংসখণ্ড। ওই দিন অন ডিউটিতে থাকা ডা. মৈনাক মৈত্র, ডা. হীরক চৌধুরী এবং ডা. সপ্তর্ষি ঘোষের টিমের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচেন ওই প্রবীণ ব্যক্তি।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, জানুয়ারি মাস জুড়ে পিকনিক ও চড়ুইভাতির মরশুমে এই ধরনের ঘটনা প্রায় প্রতি বছরই বাড়ে। শুধু প্রবীণ নন, কিশোর-কিশোরীরাও এখন এই সমস্যায় ভুগছে। অল্প বয়সিদের ক্ষেত্রে এর প্রধান কারণ হলো মোবাইল দেখতে দেখতে খাওয়া। অন্যমনস্ক অবস্থায় বড় মাংসের টুকরো ভালো করে না চিবিয়ে গিলে ফেললেই বিপদ।

চিকিৎসকদের স্পষ্ট পরামর্শ মুখে বড় মাংসের টুকরো দিলে অন্তত ১৫ সেকেন্ড ভালো করে চিবোন। খাওয়ার সময় মোবাইল বা অন্য কিছুর দিকে মন দেবেন না। দাঁতের সমস্যা থাকলে ছোট টুকরো করে খাবার খান। রেড মিট খাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। চিকিৎসকদের মতে, মুরগির মাংস তুলনামূলক নরম হওয়ায় তা সহজে ভেঙে যায় এবং খাদ্যনালিতে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু রেড মিটের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাই ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। এমনকি সময়মতো চিকিৎসা না হলে জীবনহানির আশঙ্কাও থেকে যায়।

উৎসবের আনন্দ উপভোগ করুন, তবে খাওয়ার সময় একটু সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা এমনই বার্তা দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *