আজকের দিনেতিলোত্তমাভারত

বঙ্গ বাদ, দিল্লির পছন্দ ‘মহাগুরু’ !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বঙ্গ বিজেপির অন্দরে ফের টানাপোড়েন তুঙ্গে। এবার রাজ্যের কোনও শীর্ষ বিজেপি নেতাকে নয়, অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে রাজ্যসভায় পাঠাতে চাইছে দলের দিল্লি লবির একাংশ। বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ এই কারণেই, সিপিএম নেতা ও আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যের রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেই আসনেই বিরোধী দলের বিধায়কদের কোটায় মিঠুনকে পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সংসদীয় রাজনীতিতে কার্যত ‘শূন্য’ হয়ে যাবে সিপিএম।

প্রসঙ্গত, আগামী এপ্রিল মাসে রাজ্যসভায় মোট ৩৭টি আসনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি আসনে নির্বাচন হবে। এই পাঁচটি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, সাকেত গোখলে বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। পাশাপাশি সিপিএম নেতা বিকাশ ভট্টাচার্যেরও মেয়াদ শেষ হচ্ছে। অন্যদিকে মৌসম বেনজির নুর সাংসদপদ ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ায় সেই আসনটিও শূন্য হয়েছে।
বর্তমান বিধানসভা সংখ্যার নিরিখে এই পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটি তৃণমূল কংগ্রেসের এবং একটি বিজেপির ঝুলিতে যাওয়াই কার্যত নিশ্চিত। একটি রাজ্যসভা আসন জিততে প্রয়োজন ৫০ জন বিধায়কের সমর্থন। সেই একমাত্র বিরোধী আসনটিতে কাকে প্রার্থী করা হবে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিজেপির অন্দরের টানাপোড়েন।
বিজেপির দিল্লি লবির একাংশের মতে, মিঠুন চক্রবর্তীকে রাজ্যসভায় পাঠানো হলে তিনি সাংসদ হিসেবে রাজ্যজুড়ে বিধানসভা ভোটের প্রচারে পুরোদমে নামতে পারবেন। ‘মহাগুরু’কে সামনে রেখে বিজেপির প্রচারে নতুন মাত্রা আসবে বলেই তাঁদের ধারণা। শুধু তাই নয়, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্কও কষছে ওই লবি। তাদের মতে, ভবিষ্যতে যদি রাজ্যে সরকার গড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং তৎকাল ও আদি বিজেপি শিবিরের মধ্যে কোন্দল চরমে ওঠে, সেক্ষেত্রে মিঠুনকে বিকল্প মুখ হিসেবে তুলে ধরা যেতে পারে।
কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে মিঠুনকে বিধানসভায় লড়ানোর মতো নিশ্চিত আসন পাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সেই কারণেই রাজ্যসভা আসনকে ‘নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে দেখছে দিল্লির একাংশ। সরকার গঠনের পরিস্থিতি তৈরি হলে সাংসদ রেখেই শেষ মুহূর্তে বিধানসভায় প্রার্থী করা যেতে পারে মিঠুনকে এতে কোনও ঝুঁকি থাকবে না, এমনটাই যুক্তি।

উল্লেখযোগ্যভাবে, মিঠুন চক্রবর্তীকে প্রথম রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে সারদা ও একাধিক চিটফান্ড বিতর্কের আবহে আচমকাই সাংসদপদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। তার পর বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

তবে মিঠুনকে ঘিরে এই পরিকল্পনায় বিজেপির অন্দরে সবাই একমত নয়। দলের সর্বভারতীয় নেতৃত্বের আরেকটি শক্তিশালী লবি প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়কে আবার রাজ্যসভায় দেখতে চাইছে। তাঁদের যুক্তি, সাংসদ থাকাকালীন লকেট দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থাভাজন ছিলেন। একাধিক রাজ্যে বিজেপির সাংগঠনিক কাজ ও নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।

যদিও লকেট নিজে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে তাঁর পুরনো সংসদীয় ক্ষেত্র হুগলির কোনও বিধানসভা আসনে দাঁড়ালেই যে জয় নিশ্চিত, তা নিয়ে দলের অন্দরেই সংশয় রয়েছে। ফলে রাজ্যসভা বনাম বিধানসভা এই দ্বন্দ্ব লকেট শিবিরের মধ্যেও স্পষ্ট।

রাজ্যসভার জন্য আরও কয়েকজন নেতার নামও ঘুরছে বিজেপির অন্দরে। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহার নাম সামনে এসেছে। শমীক শিবিরের তরফে তাঁর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছেন অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় এবং বালুরঘাটের বিধায়ক অশোক লাহিড়ীও।

সব মিলিয়ে, একমাত্র রাজ্যসভা আসনকে ঘিরে বিজেপির অন্দরে এখন একাধিক শিবির, ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্ক এবং দিল্লি বনাম বঙ্গ নেতৃত্বের সংঘাত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। শেষ পর্যন্ত ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তীই কি বিজেপির রাজ্যসভার মুখ হবেন, নাকি কোনও বঙ্গ নেতাই টিকিট পাবেন সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *