ফের রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের পক্ষে সওয়াল অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ফের পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দাবি তুলে রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন করে উত্তাপ ছড়ালেন তমলুকের বিজেপি সাংসদ তথা প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, খুব শীঘ্রই রাজ্যে একের পর এক বড় কেলেঙ্কারি সামনে আসতে চলেছে। সেই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ এবং রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দাবিতে লাগাতার আন্দোলনে নামা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রবিবার কলকাতায় ‘পশ্চিমবঙ্গ ঐক্যবদ্ধ ছাত্র যুবসমাজ সংগঠন’-এর ডাকে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত হয়ে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “একটানা কয়েকদিনের মধ্যেই রাজ্যে বড় কেলেঙ্কারি ফাঁস হবে। তখন ৭২ ঘণ্টা বনধ ডাকা উচিত। যতক্ষণ না মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করছেন, যতক্ষণ না রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিক্ষোভ চলা উচিত। রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবিতে সবার পথে নামা উচিত।”
সাংসদ আরও বলেন, “আমার মনে হয় এই সরকার আইনগতভাবে ক্ষমতায় রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই এমন কিছু কেলেঙ্কারি সামনে আসবে, যা রাজনীতির গতিপথ বদলে দেবে। তখন আবার জোরদার আওয়াজ উঠবে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, ভবিষ্যতে প্রকাশ্যে আসতে চলা দুর্নীতির অভিযোগকে সামনে রেখেই রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতির বার্তা দিতে চাইছেন তিনি।
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ এই দাবিকে কটাক্ষ করে বলেন, “আপনার কাছে যদি কোনও অভিযোগ থাকে, সিবিআইয়ের কাছে যান। রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবিতে রাষ্ট্রসঙ্ঘে যান। ওগুলো পুরনো কথা।”
কুণাল ঘোষের আরও বক্তব্য, “একটি নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দেওয়ার কথা একজন সাংসদ কীভাবে বলেন? বাংলার মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের পাশেই আছে।” তাঁর মতে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে সরানোর আহ্বান আদতে গণতন্ত্রের পরিপন্থী।
একজন প্রাক্তন বিচারপতির মুখে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি উঠায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূল নেতৃত্বের প্রশ্ন, আদালতের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন সাংসদ বারবার রাষ্ট্রপতি শাসনের মতো সাংবিধানিকভাবে চরম পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করতে পারেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দুর্নীতির অভিযোগকে সামনে রেখে বিজেপি রাজ্য রাজনীতিতে চাপ বাড়াতে চাইছে। অন্যদিকে শাসকদলের দাবি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অপব্যবহার ও রাষ্ট্রপতি শাসনের হুমকি দিয়ে বাংলার নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের পক্ষে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট, আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে সংঘাত ও বিক্ষোভের সুর আরও তীব্র হতে চলেছে।
বড় কোনও কেলেঙ্কারি আদৌ সামনে আসে কি না, আর সেই সূত্র ধরে রাজ্যে রাজনৈতিক আন্দোলন কতটা জোরদার হয় এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
