আজকের দিনেবাংলার আয়না

প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে ফের মাধ্যমিকে ছাত্র

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- পোলিওর কারণে দু’পায়ে তেমন সাড় নেই। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাই রীতিমতো কষ্টকর। হাতের সমস্যায় সাবলীলভাবে লিখতেও পারে না। তার উপর রয়েছে চরম আর্থিক অনটন। তবুও কোনও প্রতিবন্ধকতাই থামাতে পারেনি শুভম দাসকে। মনের জোরে ভর করেই সোমবার ফের মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসল কীর্ণাহার শিবচন্দ্র হাইস্কুলের ১৮ বছরের এই ছাত্র।

শুভমের বাড়ি স্কুলের কাছেই। বাবা বৃন্দাবন দাস দিনমজুর, মা পূর্ণিমা দাস গৃহবধূ। দিদি স্বপ্না ইতিমধ্যেই গ্র্যাজুয়েশন সম্পূর্ণ করেছেন। ছোটবেলাতেই পোলিওতে আক্রান্ত হয় শুভম। সেই সময় তাঁকে কোলে করে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া ও বাড়ি ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নিতেন বাবা-মা বা দিদি। পরে পাড়ার বন্ধু ও সহপাঠীদের কাঁধে ভর করে চলত তাঁর যাতায়াত।

শারীরিক সমস্যার কারণে প্রতিদিন নিয়মিত স্কুলে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবুও পড়াশোনা ছাড়েনি সে। গত বছর রাইটার নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছিল শুভম, কিন্তু অল্পের জন্য পাশ করতে পারেনি। সেই ব্যর্থতায় ভেঙে না পড়ে আবারও নিজেকে প্রস্তুত করেছে সে।

এ বছর শুভমের রাইটার হয়েছে একই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র অপরাজেয় মুখোপাধ্যায়। পরীক্ষাকেন্দ্র পড়েছে স্থানীয় জুবুটিয়া জপেশ্বর বিদ্যামন্দিরে। সোমবার অপরাজেয়র ঘাড়ে হাত রেখে টোটো চড়ে সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছয় শুভম।

পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে শুভম জানায়, “আমি যদি কোনওদিন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি, তাহলে আমার মতো ছেলেমেয়েদের পাশে দাঁড়াব। এটাই আমার লক্ষ্য।” এমন এক সিনিয়রের রাইটার হতে পেরে খুশি অপরাজেয়ও।

শুভমের বাবা বৃন্দাবন দাস বলেন, “ছেলে কোনওদিন মাধ্যমিকে বসতে পারবে, সেটা আমরা ভাবতেই পারিনি।” অন্যদিকে, কীর্ণাহার শিবচন্দ্র হাইস্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি মনোজ ঘোষ বলেন, “পাশ বা ফেল বড় কথা নয়। মাধ্যমিকে বসেই শুভম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ওর সাফল্য কামনা করি।”

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, দারিদ্র্য আর একের পর এক বাধা পেরিয়ে মাধ্যমিকে বসে শুভম প্রমাণ করল ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানে সব সীমাবদ্ধতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *