পুলিশি ঘেরাটোপে বঙ্গ ভবন, ‘বাড়ির কাপড়েই’ ছুটলেন মমতা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- রবিবার বিকেলে দিল্লিতে পৌঁছেই সোমবার সকাল থেকে তপ্ত হয়ে উঠল রাজধানীর রাজনীতি। চাণক্যপুরীর বঙ্গভবন ঘিরে বিপুল দিল্লি পুলিশ মোতায়েন, ঘরে ঘরে তল্লাশির অভিযোগ এই পরিস্থিতিতেই রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন তৃণমূল সুপ্রিমো ও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার সকাল থেকেই বঙ্গভবনে দেখা যায় নজিরবিহীন ছবি। এসআইআর আতঙ্কে স্বজনহারা পরিবারের সদস্যরা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই বঙ্গভবনেই দিল্লি পুলিশ ব্যাপক তল্লাশি চালায়, ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় হ্যালি রোড। এই খবর পেয়েই নিজের বাসভবন থেকে ‘এক কাপড়ে’ বেরিয়ে সরাসরি বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সকাল থেকে বঙ্গভবন পুলিশ দিয়ে ভরে দেওয়া হয়েছে। ঘরে ঘরে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে, কে কে এসেছে। এটা করার অধিকার দিল্লি পুলিশের নেই। এটা আমাদের জায়গা।” তাঁর দাবি, এসআইআরের জেরে প্রায় ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ জানাতেই দিল্লিতে এসেছেন। “নির্বাচন কমিশন আছে, সুপ্রিম কোর্ট আছে আমরা জানি কোথায় অভিযোগ জানাতে হয়। তারপরও যদি এমন আচরণ হয়, আমরাও ভয়ঙ্কর হতে পারি,” হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এরপর সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মমতা বলেন, “আপনি বাংলায় এলে আমরা রেড কার্পেট পেতে দিই। আর আমরা দিল্লিতে এলে ব্ল্যাক কার্পেট? মাসল পাওয়ার দেখাবেন না। তা হলে আমরাও ব্ল্যাক রেজাল্ট দেখাতে জানি।” তিনি জানান, মঙ্গলবার বঙ্গভবনেই স্বজনহারা পরিবারগুলি সাংবাদিকদের সামনে তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা বলবেন।
বঙ্গভবনে ঢুকে পুলিশের সঙ্গে সরাসরি বাকবিতণ্ডায় জড়ান মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশকে উদ্দেশ করে বলেন, “আমাকে দেখে পালাচ্ছেন কেন? আমরা কোনও বিক্ষোভ করতে আসিনি। বিক্ষোভ করলে মাথা খারাপ করে দিতাম। যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের পরিবার এখানে আছে। ওরা গ্রামের সরল মানুষ। আমরা বিচার চাইতে এসেছি।” দিল্লিতে আগে বহুবার থেকেছেন বলেও উল্লেখ করে মমতা বলেন, এমন পরিস্থিতি তিনি কখনও দেখেননি। এরপর তিনি ভিতরে গিয়ে স্বজনহারাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের আশ্বস্ত করেন “চিন্তা করবেন না, আমি আছি।” কর্মসূচিতে কোনও পরিবর্তন হবে না বলেও স্পষ্ট জানান। সেখান থেকে তিনি যান হ্যালি রোডের পুরনো বঙ্গভবনে। সেখানেও পুলিশের সঙ্গে ফের বচসা শুরু হয়। ক্যামেরার সামনে পুলিশি বেষ্টনীর ছবি দেখাতে বলতেই কিছুটা পিছু হটে দিল্লি পুলিশ।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এসআইআরের নামে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং কেন্দ্র দেশজুড়ে স্বৈরাচারী মনোভাব দেখাচ্ছে। “আমাকে দুর্বল ভাবার কারণ নেই,” স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি। পাশাপাশি জানান, মঙ্গলবার দুপুর ৩টেয় স্বজনহারা পরিবারগুলি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরবেন।
এই ঘটনায় বিজেপির তরফে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর বক্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইচ্ছাকৃতভাবে হুজ্জুতি করছেন। বঙ্গভবন দিল্লির মধ্যেই, সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে পুলিশ ঢুকতেই পারে। সুরক্ষা দেওয়া পুলিশের কর্তব্য।”
শীতের দিল্লিতে এভাবেই ক্রমশ চড়ছে ভোটের উত্তাপ। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও এসআইআর ইস্যুতে অভিযোগ জানাতে আসা স্বজনহারাদের উপস্থিতি ঘিরে বঙ্গভবন এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
