নির্বাচনের মাঝেই কি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক স্তরের তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষার্থীদের পর সমস্যায় পড়তে চলেছেন প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষার্থীরা । কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ সমস্ত কলেজের প্রথম সেমিস্টার থিওরি পরীক্ষা শুরু হবে, ১০ই এপ্রিল থেকে যা চলবে ২৪শে এপ্রিল পর্যন্ত। এই সময়ে ভোটের ভরা মরশুম বাংলায় । যা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষক-শিক্ষিকারা ।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষের কথায় ভোটের মরশুমে পরীক্ষা হওয়া নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা রয়েছে । তিনি বলেন যার চর্চা চলছে তাতে ওই সময়ে রাজ্যে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা । ফলে পরীক্ষা নিয়ে আশঙ্কা হওয়াটাই স্বাভাবিক ।
কলেজ অধ্যক্ষদের প্রশ্ন পরীক্ষার নিয়ামক দপ্তর ওই সময় পরীক্ষার রুটিন ফেলল কেন ? পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী নাটক স্তরে প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদের ক্লাস শুরু হয়েছে ২৯ আগস্ট । ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী ইতিমধ্যে তাদের চোদ্দ সপ্তাহের বেশি ক্লাস হয়ে গিয়েছে । তাহলে পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘোষণায় এত বিলম্ব কেন ? এতে তো দুই ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে । একে সিলেবাসে আবার ভোটের জন্য পরীক্ষা পিছলে দ্বিতীয় সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হতে দেরি হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনায় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ভোট ঘোষণা হলে নিউ কলেজ নির্বাচন কমিশন নিয়ে নেবে । পরীক্ষা সেই সময় নেওয়া সম্ভব হবে না । কারণ ভোটের আগে কলেজগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনীদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে । এবার ভোটের কারণে যদি পরীক্ষার চলতি বছরের পুজোর ছুটির পর দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা হবে । কন্ট্রোলার সেকশন কর্তাদের কথায়, প্রথম সেমিস্টারের সিলেবাস শেষ হওয়ার আগে কলেজ অধ্যক্ষরা তৃতীয় সেমিস্টারের সঙ্গে অথবা তার আগেই প্রথমে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলছেন তার জন্য আগাম বড় প্ল্যানিং দরকার । প্রথম সেমিস্টার পরীক্ষার্থী দ্বিতীয় সেমিস্টারের আগে নিলো পরীক্ষা পদ্ধতি ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে যাবে ।
নিখিল বঙ্গ অধ্যক্ষ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তথা সিন্ডিকেট সদস্য মানষ কবিরের কথা অনুযায়ী প্রথম ও তৃতীয় সেমিস্টার পড়ুয়াদের মধ্যে এভাবে বৈষম্য করা ঠিক নয় । প্রয়োজনে প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার দিনক্ষণ পরিবর্তন করা যেতে পারে । এবার কন্ট্রোলার কাজের এক আধিকারিক জানান উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করা হয়েছে, এবার ভোটের দিন ঘোষণার দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোন বিকল্পের পথ খোলা নেই ।
