আজকের দিনেগরম মাশলা

দুবাইয়ের ভাইরাল ‘ইফা চিকেন’, মশলা আর সাদা সসেই স্বাদের রহস্য

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

দুবাইয়ের খাদ্যসংস্কৃতি বরাবরই বিশ্বজোড়া প্রভাবের জন্য পরিচিত। আর সেই তালিকায় নতুন সংযোজন ‘ইফা চিকেন’ যা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারনেটে তুমুল চর্চা। বিশেষ করে দুবাই এর বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও ফুড স্টলের মেনুতে জায়গা করে নেওয়ার পর থেকেই এই পদটি খাদ্যরসিকদের নজর কাড়ে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, মশলাদার ভাজা মুরগির উপর ঢেলে দেওয়া হচ্ছে ঘন, সাদা, ক্রিমি সস আর সেই দৃশ্যই আগ্রহ বাড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

এই রান্নার বিশেষত্ব তার দুই স্তরের প্রস্তুতিতে। প্রথমে মুরগির ঊরুর মাংস ভালোভাবে পরিষ্কার করে ছুরি দিয়ে হালকা কেটে নেওয়া হয়, যাতে মশলা ভেতর পর্যন্ত ঢুকে যেতে পারে। এরপর শুরু হয় ম্যারিনেশনের পর্ব। জল ঝরানো টকদইয়ের সঙ্গে আদা-রসুন বাটা, ধনেগুঁড়ো, জিরেগুঁড়ো, কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো, সাধারণ লঙ্কাগুঁড়ো, হলুদ, গরমমশলা, নুন, সামান্য চিনি ও লেবুর রস মিশিয়ে তৈরি করা হয় একটি ঘন মশলার মিশ্রণ। সেই মিশ্রণে মাংস মাখিয়ে অন্তত এক ঘণ্টা রেখে দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যেই দইয়ের অম্লতা ও মশলার সংমিশ্রণ মাংসকে নরম ও রসালো করে তোলে।

ম্যারিনেশনের পাশাপাশি প্রস্তুত করা হয় এই পদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ সাদা সস। ডিমের সাদা অংশ, রসুনের কোয়া, চিজ কিউব, মেয়োনিজ, দুধ, সামান্য ক্রিম, নুন ও অল্প চিনি একসঙ্গে মিক্সিতে ব্লেন্ড করে নেওয়া হয়। ফলে তৈরি হয় মসৃণ, ঘন ও হালকা ঝাঁঝালো এক সস, যার স্বাদ মাংসের মশলাদার স্তরের সঙ্গে বৈপরীত্য তৈরি করে।

রান্নার শেষ ধাপে প্যানে তেল ও মাখন গরম করে ম্যারিনেট করা মাংস মাঝারি আঁচে এপিঠ-ওপিঠ ভেজে নেওয়া হয়। মাংস প্রায় ৮০ শতাংশ সেদ্ধ হয়ে এলে তার উপর সমানভাবে সাদা সস ঢেলে প্যান ঢেকে দেওয়া হয়। হালকা আঁচে আরও কয়েক মিনিট রান্না হলে সস মাংসের সঙ্গে মিশে গিয়ে তৈরি করে এক ঘন, ক্রিমি আবরণ।
চুলা বন্ধ করার পর উপরে সামান্য ধনেপাতা ছড়িয়ে পরিবেশন করা হয় এই বিশেষ পদ। ভেতরে মশলার ঝাঁঝ, বাইরে মোলায়েম সস দুয়ের মিলনে তৈরি হয় স্বাদের এক অভিনব অভিজ্ঞতা।
খাদ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদের জনপ্রিয়তার মূল কারণ তার টেক্সচারের বৈচিত্র্য ও সহজ প্রস্তুতপ্রণালী। মধ্যপ্রাচ্যের স্বাদে ভারতীয় মশলার ছোঁয়া এই সংমিশ্রণই ইফা চিকেনকে আলাদা করে তুলেছে। ইন্টারনেটের দৌলতে এখন আর শুধু দুবাই নয়, ঘরোয়া রান্নাঘরেও জায়গা করে নিচ্ছে এই ভাইরাল পদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *