দক্ষিণ কলকাতায় নাবালিকাকে গণধর্ষণ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- দক্ষিণ কলকাতার পাটুলি থানার এলাকায় সরস্বতী পুজোর আগের সন্ধ্যায় ঘটে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুই যুবক আকাশ হালদার ও প্রদীপ মণ্ডল নাবালিকাকে ঘুরতে যাওয়ার নাম করে একটি নির্জন ঘরে নিয়ে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা মদ্যপানের পর নাবালিকাকে যৌন নিগ্রহের শিকার করে। শুধু তাই নয়, অভিযুক্তরা নাবালিকাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে যাতে সে কাউকে কিছু না বলে। এই ঘটনার পর নাবালিকা মানসিকভাবে ভীত এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে পরিবারের কাছে ফিরে এসে সে সাহস করে পুরো ঘটনা খুলে বলে।
পরিবার তৎক্ষণাৎ পাটুলি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনা তদন্ত শুরু করে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় নাবালিকা নির্জন ঘরে ছিল এবং অভিযুক্তরা তাঁকে বাধ্য করে। এরপর থেকেই তাঁরা পলাতক ছিলেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে শনিবার ধৃতদের গ্রেপ্তার করে।
ধৃতদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, যৌন নিগ্রহ এবং পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে এবং তাঁরা ঘটনার পুরো সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে। কলকাতা পুলিশের এক তদন্তকারী আধিকারিক জানিয়েছেন, “এই নারকীয় ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত আছে কিনা, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ঘটনার দিকনির্দেশনায় আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না।”
স্থানীয়রা এই ঘটনার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা আশা করছেন, পুলিশ নাবালিকা এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এলাকাবাসী আরও দাবি করছেন, শহরে কিশোরী ও নাবালিকাদের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
এই ঘটনায় বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন হয়েছে সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও। তাঁরা মনে করছেন, শুধুমাত্র আইনি পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়; মানসিক সহায়তা, সচেতনতা এবং স্কুল-কলেজ পর্যায়ে শিশুদের নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণও জরুরি।
এটি শহরের জন্য একটি জাগ্রতবার্তা যে, কিশোরী ও নাবালিকাদের নিরাপত্তা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশ ও প্রশাসন দায়িত্বশীলতা নিয়ে কাজ করছে, তবে সমাজের সকল স্তরকে সতর্ক ও সচেতন হতে হবে, যাতে এ ধরনের ভয়াবহ ঘটনা পুনরায় না ঘটে।
