ত্রিকোণ প্রেমে ছাত্র খুন: তিনদিন পর ধরা মূল অভিযুক্ত
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- তিনদিন ধরে গা ঢাকা দিয়েও শেষরক্ষা হল না। ত্রিকোণ প্রেমের জেরে দশম শ্রেণির এক ছাত্রকে খুনের ঘটনায় অবশেষে গ্রেপ্তার হল মূল অভিযুক্ত রাজ পাসোয়ান (২৪)। মঙ্গলবার গভীর রাতে নিউ জলপাইগুড়ি এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ। বুধবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে। তদন্তকারীদের মতে, ধৃতকে বিস্তারিত জেরা করলেই খুনের নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।
এই ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার। মাটিগাড়ির শিমুলতলার বাসিন্দা ওই নাবালক সেদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেনি। প্রথমে পরিবার ও আত্মীয়রা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নেন। বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু কোনও হদিশ না মেলায় মাটিগাড়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, প্রথমদিকে তদন্তে তৎপরতা ছিল না। ক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্যরা থানায় বিক্ষোভ দেখান। এরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। শুরু হয় মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাকিং, কল রেকর্ড বিশ্লেষণ এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ।
পরবরর্তীতে তদন্তে উঠে আসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। জানা যায়, শনিবার বিকেলে নিখোঁজ ছাত্রকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল তাঁরই বন্ধু রাজ পাসোয়ান। দু’জনের মধ্যে একটি নির্জন জায়গায় বাগ্বিতণ্ডা হয়, যা পরে হাতাহাতিতে গড়ায়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মারধরের পর শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় ওই নাবালককে। ঘটনার সময় সেখানে আরও এক নাবালক উপস্থিত ছিল বলে জানা যায়। ফোনের কল রেকর্ড এবং চ্যাটের সূত্র ধরেই দ্বিতীয় নাবালককে চিহ্নিত করে পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই ঘটনার রূপরেখা স্পষ্ট হতে শুরু করে।
সোমবার গভীর রাতে সুকনার একটি চা বাগান এলাকা থেকে উদ্ধার হয় রক্তাক্ত দেহ। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারীরা।
তদন্তে উঠে এসেছে ত্রিকোণ প্রেমের ইঙ্গিত। পুলিশ সূত্রে খবর, এক তরুণীকে কেন্দ্র করেই দুই বন্ধুর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। সেই থেকেই তৈরি হয় মানসিক দ্বন্দ্ব, যা শেষমেশ ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে বলে অনুমান।
এই ঘটনায় প্রথমে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মূল অভিযুক্ত রাজ পাসোয়ানের সন্ধান মেলে। গত তিনদিন ধরে সে বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করে ছিল বলে জানা গেছে।
ডিসিপি রাকেশ সিং জানিয়েছেন, “এক তরুণীকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে তোলা হবে। জেরায় আরও তথ্য সামনে আসবে।”
এলাকায় এই ঘটনায় শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একসময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব যে এমন মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তা ভাবতেই পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। তদন্ত এগোচ্ছে, আর সকলের নজর এখন আদালত ও পুলিশি জেরার দিকে।
