ডিজিটাল মার্কিংয়ে সিবিএসই, প্র্যাকটিক্যাল নম্বর জমায় কড়া ডেডলাইন
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- সিবিএসই ২০২৬ সালের বোর্ড পরীক্ষাকে সামনে রেখে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা করেছে। বোর্ড জানিয়েছে, আগামী বছরের দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে। তার আগে প্র্যাকটিক্যাল, প্রজেক্ট ও ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্টের সমস্ত কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে এবং প্রাপ্ত নম্বর অনলাইনে জমা দিতে হবে। বোর্ড স্পষ্ট করে জানিয়েছে, প্র্যাকটিক্যাল ও ইন্টারনাল মূল্যায়নের নম্বর নির্ধারিত পোর্টালে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই আপলোড করতে হবে। সময়সীমা পেরিয়ে গেলে বা একবার নম্বর জমা হয়ে গেলে তা আর সহজে সংশোধন করা যাবে না। তাই নম্বর আপলোডের ক্ষেত্রে স্কুল ও শিক্ষকদের বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সিবিএসই তাদের নির্দেশিকায় জানিয়েছে, প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা ও ইন্টারনাল মূল্যায়নের কাজ সাধারণত জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সব নম্বর অনলাইনে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। বোর্ডের পোর্টালে সরাসরি নম্বর এন্ট্রি করতে হবে এবং পরীক্ষার দিনেই নম্বর আপলোড করা বাঞ্ছনীয়। কোনও ভুল নম্বর পাঠানো হলে পরে তা সংশোধনের সুযোগ প্রায় থাকবে না বলেই বোর্ড জানিয়েছে। ফলে প্রতিটি নম্বর যাচাই করে তবেই জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবারের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো দ্বাদশ শ্রেণির উত্তরপত্র মূল্যায়নে “অন-স্ক্রিন মার্কিং” বা ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা। এর অর্থ, পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র প্রথমে স্ক্যান করা হবে। তারপর সেই স্ক্যান করা খাতা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা হবে। পরীক্ষকরা নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে কম্পিউটার স্ক্রিনে বসে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করবেন এবং নম্বর দেবেন। এতে হাতে খাতা গোনা বা নম্বর যোগ করার ভুল কমবে বলে বোর্ডের আশা। নম্বর গণনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে, ফলে মানবিক ত্রুটি কমবে এবং ফল প্রকাশের প্রক্রিয়াও দ্রুত হতে পারে।
তবে এই ডিজিটাল অন-স্ক্রিন মার্কিং পদ্ধতি আপাতত শুধুমাত্র দ্বাদশ শ্রেণির ক্ষেত্রে চালু করা হচ্ছে। দশম শ্রেণির উত্তরপত্র আগের মতোই নির্দিষ্ট মূল্যায়ন কেন্দ্রে পাঠিয়ে হাতে হাতে মূল্যায়ন করা হবে। অর্থাৎ দশম শ্রেণির ক্ষেত্রে এখনও প্রচলিত পদ্ধতিই বজায় থাকবে।
এই নতুন ব্যবস্থার জন্য সিবিএসই স্কুলগুলিকে প্রযুক্তিগতভাবে প্রস্তুত থাকতে বলেছে। স্কুলে পর্যাপ্ত কম্পিউটার, স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ, আপডেটেড ব্রাউজার ও প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার থাকতে হবে। মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় যুক্ত শিক্ষকদের নাম, ই-মেল ও অন্যান্য তথ্য আগেভাগে পোর্টালে আপডেট রাখতে বলা হয়েছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ, ডেমো সেশন ও সহায়ক নির্দেশিকাও দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা অন-স্ক্রিন মার্কিং পদ্ধতিতে স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারেন।
সব মিলিয়ে সিবিএসই ২০২৬ সালের বোর্ড পরীক্ষায় একদিকে প্র্যাকটিক্যাল ও ইন্টারনাল নম্বর জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে, অন্যদিকে দ্বাদশ শ্রেণির মূল্যায়নে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করে মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও নির্ভুল করার চেষ্টা করছে। বোর্ডের লক্ষ্য, প্রযুক্তির সাহায্যে ভুল কমিয়ে দ্রুত ফল প্রকাশ করা এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে আধুনিক করা।
