ছেলের ফোনেই মিলল মৃত্যুর ভয়ংকর কারণ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- সাইবার প্রতারণা ও লাগাতার ব্ল্যাকমেলের চাপে প্রাণ হারালেন এক কলেজ পড়ুয়া যুবক। আত্মহত্যার আগে নিজের মোবাইল ফোন থেকে সমস্ত তথ্য মুছে ফেলেছিলেন তিনি। প্রথমে কিছুই বুঝতে পারছিল না পরিবার। কিন্তু ছেলের ফোন ঘেঁটে ভয়ংকর সত্য সামনে আনেন বাবা। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নেমে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের আগ্রার বাসিন্দা আকাশ সিং নামে বি.কম-এর তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্র গত বছরের ৯ অক্টোবর আত্মহত্যা করেন। আকাশের বাবা সুখবীর সিং একজন ইঞ্জিনিয়ার। ছেলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর তিনি আকাশের মোবাইল ফোনটি পরীক্ষা করেন। তখনই তাঁর চোখে পড়ে, আত্মহত্যার ঠিক কিছুক্ষণ আগেই ফোনটি রিসেট করা হয়েছিল এবং সমস্ত তথ্য মুছে দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি তাঁর মনে গভীর সন্দেহের জন্ম দেয়।
নিজের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ব্যবহার করে সুখবীর সিং মুছে যাওয়া সমস্ত তথ্য পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন। ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য দেখে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর ছেলে সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন। মোবাইলের মধ্যে আকাশের একাধিক বিকৃত ছবি পাওয়া যায়। পাশাপাশি ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং ও অনলাইন চ্যাটিং অ্যাপের কথোপকথন থেকে জানা যায়, ওই ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁকে নিয়মিত ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল।
পুলিশ জানায়, আকাশের ব্যাঙ্ক লেনদেনের হিসাব খতিয়ে দেখা গেলে দেখা যায়, চার দফায় মোট ৪০ হাজার টাকা প্রতারকদের পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরেও ব্ল্যাকমেল বন্ধ হয়নি। বরং দিনের পর দিন টাকার অঙ্ক আরও বাড়তে থাকে। এই লাগাতার মানসিক চাপ ও ভয় থেকেই চরম সিদ্ধান্ত নেন আকাশ এমনটাই পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।
এই ঘটনার পর আকাশের বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ফোনের তথ্য, ব্যাঙ্ক লেনদেনের নথি এবং অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখে সোমবার মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি শম্ভাজি নগর এলাকা থেকে রোহন বিহারিলাল সোনাওয়ানে ও করণ রাজেন্দ্র চিন্ডালিয়া নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই সাইবার প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে। বাকিদের খোঁজে পুনেতে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং ধাপে ধাপে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
