তিলোত্তমা

চেতলায় যুবক খুনের ঘটনায় চার্জশিট পেশ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- চেতলায় যুবক খুনের ঘটনায় ৮৩ দিনের মাথায় চার্জশিট পেশ করল লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। শুক্রবার আলিপুর আদালতে জমা পড়ে ৮৫ পাতার চার্জশিট। তদন্তকারীদের তরফে জানানো হয়েছে, এই মামলায় মোট ৩০ জন সাক্ষীর নাম রাখা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ২৫ অক্টোবর। সেদিন রাতে চেতলা থানা এলাকার ১৭ নম্বর বাসস্ট্যান্ডের কাছে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ছুটতে দেখা যায় চেতলা রোডের বাসিন্দা অশোক পাশোয়ানকে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরদিন মৃতের পরিবারের তরফে থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নিহত অশোকের সঙ্গে তাঁর বন্ধু সুরজিৎ হালদার ওরফে বাপির পারিবারিক বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিবাদ চলছিল। অভিযোগ, সুরজিতের স্ত্রীকে কেন্দ্র করে অশোক নিয়মিত কটূক্তি করতেন। সেই বিবাদ থেকেই খুনের ঘটনা ঘটে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার রাতে অশোক, তাঁর ভাই মনোজ পাশোয়ান, সুরজিৎ ওরফে বাপি, তাপস পাল এবং রাহুল অধিকারী ওরফে গুটখে রাস্তায় বসে মদ্যপান করছিলেন। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ বাপি, তাপস ও অশোক আরও মদ কিনতে টালিগঞ্জ যান। ফিরে এসে শিবমন্দির সংলগ্ন এলাকায় দাঁড়ানোর সময় তাঁদের মধ্যে বচসা শুরু হয়।

অভিযোগ, সেই সময় বাসস্ট্যান্ড থেকে পাওয়া একটি লোহার রড দিয়ে অশোকের মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় অশোক রাস্তায় দৌড়াতে থাকেন। তাঁর মুখ ও গলা দিয়ে রক্ত বেরোতে দেখা যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্ত সুরজিৎ ও তাপস এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে সন্দেহ এড়াতে তারা ফের এলাকায় ফিরে এসে অশোককে সাহায্যের ভান করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই বন্ধু সুরজিৎ হালদার ওরফে বাপি এবং তাপস পালকে গ্রেপ্তার করে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের হোমিসাইড শাখা। ইতিমধ্যেই খুনে ব্যবহৃত লোহার রড উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার জেরে চেতলা এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে চেতলা থানার তৎকালীন ওসিকে সরানো হয়। যদিও পুলিশ কর্তাদের দাবি, পদোন্নতির কারণেই ওই আধিকারিকের বদলি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *