আজকের দিনেসুস্থ থাকুন

চল্লিশের পর ত্বকের যত্নে সহজ তিন উপায়

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- সময় যেন হাতের মুঠোয় ধরাই দেয় না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সংসার, অফিস, পরিবার সব সামলাতে সামলাতে নিজের জন্য আলাদা করে সময় বার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। বিশেষ করে চল্লিশের পরে দাঁড়িয়ে অনেক মহিলারই মনে হয়, ত্বকের যত্ন নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও বাস্তবে তা হয়ে ওঠে না। পার্লারে যাওয়ার জন্য আগে থেকে সময় ঠিক করতে হয়, ঘরে বসে ফেস প্যাক লাগাতেও লাগে আলাদা প্রস্তুতি। তাই নিত্যদিনের ক্রিম, ফেসওয়াশ আর সানস্ক্রিনেই দায়িত্ব শেষ হয়। কিন্তু সত্যি কথা বলতে কী, চল্লিশের পরেই ত্বকের সবচেয়ে বেশি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।

কারণ এই বয়সের পর থেকেই ত্বকের স্বাভাবিক স্থিতিস্থাপকতা বা কোলাজেন উৎপাদন কমতে শুরু করে। ত্বক একটু ঢিলে লাগে, বলিরেখা স্পষ্ট হয়, উজ্জ্বলতা কমে যায়। এ সময় অনেকেই দামি প্রসাধনীর দিকে ঝোঁকেন। কিন্তু আসল প্রয়োজন হল ত্বকের কোষকে ভিতর থেকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং নিয়মিত, সহজ একটি রুটিন মেনে চলা। ব্যস্ত জীবনেও কয়েকটি ছোট পরিবর্তন আনলেই ত্বককে অনেকটাই সুস্থ ও টানটান রাখা সম্ভব।
প্রথমেই বলা যায় ‘স্কিন সাইক্লিং’ পদ্ধতির কথা। রোজ একসঙ্গে অনেক রকম ক্রিম বা প্রসাধনী ব্যবহার না করে চার দিনের একটি নির্দিষ্ট চক্র মেনে চলাই এর মূল কথা। এতে ত্বক অতিরিক্ত চাপে পড়ে না এবং প্রতিটি উপাদান কাজ করার পর্যাপ্ত সময় পায়। প্রথম রাতে মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে হালকা কোনও ফেসিয়াল স্ক্রাব বা রাসায়নিক এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করতে পারেন, যাতে মৃত কোষ দূর হয় এবং ত্বক পরিষ্কার থাকে। দ্বিতীয় রাতে ব্যবহার করা যায় রেটিনল বা ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ ক্রিম, যা বলিরেখা কমাতে এবং ত্বকের কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে। তবে রেটিনল ব্যবহারের সময় পরিমাণ ও নিয়ম মেনে চলা জরুরি। তৃতীয় ও চতুর্থ রাতে ত্বককে বিশ্রাম দিন। এ সময় কোনও কড়া উপাদান নয়, শুধু ভালো মানের ময়েশ্চারাইজ়ার বা পুষ্টিকর সিরাম ব্যবহার করুন। এতে ত্বক নিজে থেকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ পায়।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মুখের যোগাসন ও লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজ ম্যাসাজ। চল্লিশের পরে ত্বক ঢিলে হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। দামি ফেসিয়াল বা থেরাপির পরিবর্তে প্রতিদিন কয়েক মিনিট সময় দিলেই অনেক উপকার পাওয়া যায়। রাতে ঘুমোনোর আগে ময়েশ্চারাইজ়ার লাগানোর সময় হাতের আঙুল দিয়ে চোয়ালের হাড় থেকে কানের দিকে, গাল থেকে উপরের দিকে এবং ভ্রু থেকে চুলের গোড়া পর্যন্ত হালকা চাপ দিয়ে ম্যাসাজ করুন। চাইলে গুয়াশা পাথর ব্যবহার করা যায়। এই পদ্ধতিতে ত্বকের নিচে জমে থাকা লিম্ফ্যাটিক তরল সঞ্চালিত হয়, ফোলা ভাব কমে এবং রক্তসঞ্চালন বাড়ে। ফলে সকালে মুখ সতেজ ও টানটান দেখায়।

তৃতীয় এবং সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল সানস্ক্রিন ও খাদ্যাভ্যাস। বাইরে থেকে যতই প্রসাধনী ব্যবহার করা হোক না কেন, শরীরের ভিতরের পুষ্টিই শেষ পর্যন্ত ত্বকের উপর প্রভাব ফেলে। সকালে ময়েশ্চারাইজ়ারের উপর সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক আপনি ঘরে থাকুন বা বাইরে। সূর্যের অতিবেগনি রশ্মি কোলাজেন ভেঙে দেয়, ফলে বলিরেখা ও দাগ দ্রুত বাড়ে। নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে এই ক্ষতি অনেকটাই রোধ করা যায়।

খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রেও সচেতন হওয়া দরকার। প্রতিদিন অন্তত একটি ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ টক ফল, যেমন কমলালেবু বা আমলকি খাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি এক মুঠো ভেজানো বাদাম শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট জোগায়। এগুলি ত্বকের ইলাস্টিসিটি ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং কোষের ক্ষয় কমায়। পর্যাপ্ত জল পান করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ত্বকের আর্দ্রতা ভিতর থেকেই আসে।

সব মিলিয়ে, চল্লিশের পর ত্বকের যত্ন মানেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দেওয়া বা বিপুল অর্থ খরচ করা নয়। বরং প্রয়োজন নিয়মিত যত্ন, সঠিক রুটিন এবং সচেতন জীবনযাপন। ব্যস্ত দশভূজারাও প্রতিদিন সামান্য সময় নিজেদের জন্য রাখলে ত্বক থাকবে সুস্থ, উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত। নিজের যত্ন নেওয়া বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন এই উপলব্ধিই হোক সৌন্দর্যচর্চার প্রথম ধাপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *