চলন্ত বাসে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর শ্লীলতাহানি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- চলন্ত বাসে এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণ কলকাতায়। এই ঘটনাটি ঘটেছে কেষ্টর মোড় থেকে আনন্দপুর রুবি, বেহালাগামী ১৮সি রুটের একটি যাত্রীবাহী বাসে। অভিযোগ, নাবালিকা পরীক্ষার্থীর মায়ের সামনেই ওই কাণ্ড ঘটায় এক ব্যক্তি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে বাস থেকেই নামিয়ে দেওয়া হয় এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
জানা গিয়েছে, ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী তার মায়ের সঙ্গে আলিপুর গোপালনগর এলাকা থেকে বেহালার দিকে যাচ্ছিলেন। বাসে তখন যাত্রীদের ভিড় ছিল। সেই সুযোগকেই কাজে লাগায় অভিযুক্ত ব্যক্তি। নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ, ভিড়ের অজুহাতে ওই ব্যক্তি প্রথমে তাঁর মেয়ের গায়ে আপত্তিজনকভাবে হাত দেয়। বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও অভিযুক্ত বারবার একই আচরণ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, পরপর তিনবার শ্লীলতাহানি করা হয় ওই নাবালিকাকে।
মেয়ের অস্বস্তি বুঝতে পেরেই প্রতিবাদে ফেটে পড়েন তাঁর মা। বাসের মধ্যেই চিৎকার করে বিষয়টি সকলের নজরে আনেন তিনি। তখনই অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন যাত্রীরা। মুহূর্তের মধ্যেই বাসের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই ঘটনার কথা জানাজানি হতেই অন্যান্য যাত্রীরাও ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অভিযুক্তকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং উত্তেজিত জনতার মারধরের মুখে পড়ে সে।
এই ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বেহালা থানার পুলিশ। পুলিশ অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং থানায় নিয়ে যায়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের পরিচয় ও আগের কোনও অপরাধমূলক ইতিহাস রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনার জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। পরিবারের দাবি, রাত পোহালেই ছাত্রীর ইতিহাস পরীক্ষা রয়েছে। পরীক্ষার ঠিক আগের মুহূর্তে এমন অভিজ্ঞতা তার উপর মারাত্মক মানসিক চাপ তৈরি করেছে। পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে সে আতঙ্কে রয়েছে এবং স্বাভাবিক থাকতে পারছে না।
এ ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নির্যাতিতার মা। রাজ্যের নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, প্রকাশ্যে, জনসমক্ষে যদি এমন অপরাধ ঘটে, তা হলে সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ? তাঁর দাবি, অতীতে এ ধরনের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে আজ এভাবে প্রকাশ্যে অপরাধ করার সাহস পেত না দুষ্কৃতীরা।
চলন্ত বাসে নাবালিকার শ্লীলতাহানির এই ঘটনায় ফের একবার জনপরিবহণে নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গেল বলে মনে করছেন নাগরিকদের একাংশ।
