গ্র্যামির মঞ্চে সেরার সেরা দলাই লামা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- মুখে নির্লিপ্ত হাসি, চোখে অনন্ত শান্তির ছায়া, যাঁর কাছে শান্তিই শেষ কথা, সেই দলাই লামা। আধ্যাত্মিক জগতের এই আইকনের জীবনে রবিবার রাতে যোগ হল আর-একটি ঐতিহাসিক ‘প্রথম’। ৬৮তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চে জায়গা করে নিলেন চতুর্দশ দলাই লামা।
রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি (ভারতীয় সময় সোমবার ভোরে) লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠিত গ্র্যামি অনুষ্ঠানে বেস্ট অডিওবুক,ন্যারেশন এন্ড স্টোরিটেলিং রেকর্ডিং বিভাগে সম্মানিত হল তাঁর স্পোকেন-ওয়ার্ড অ্যালবাম “Meditations: The Reflections of His Holiness the Dalai Lama”। ৯০ বছর বয়সে এসে এমন আন্তর্জাতিক সংগীত স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক মাইলফলক।
এই বিভাগে প্রতিযোগিতা ছিল যথেষ্ট কঠিন। মনোনীতদের তালিকায় ছিলেন গ্র্যামির সঞ্চালক ট্রেভর নোয়া, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন এবং মিলি ভানিলির ফ্যাব মরভ্যান। তাঁদের সকলকে পিছনে ফেলে দলাই লামার জয় প্রমাণ করে দেয় যে খ্যাতি বা বিনোদনের ঝলক নয়, বরং কণ্ঠের গভীরতা ও বার্তার সার্বজনীনতাই এখানে শেষ কথা। পুরস্কার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় বিস্ময় ও অভিনন্দনের ঢল। এই পুরস্কার ঘোষণা হয় গ্র্যামির প্রি-টেলিকাস্ট রাউন্ডে, যা ইউটিউবে লাইভস্ট্রিম করা হয়েছিল। বয়সজনিত কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি দলাই লামা। তাঁর হয়ে মঞ্চে ট্রফি গ্রহণ করেন বিশ্বখ্যাত গায়ক-গীতিকার রুফাস ওয়েনরাইট। মাইক হাতে নিয়ে তিনি প্রথমেই রসিকতা করে বলেন, “আমি দালাই লামা নই এটা পরিষ্কার!” তারপরই জানান, দয়া, মমতা ও আত্মচিন্তার বার্তাভিত্তিক এমন একটি প্রকল্পে কাজ করতে পারা তাঁর জীবনের অন্যতম বড় সম্মান। পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অ্যালবামটি মূলত একটি স্পোকেন-ওয়ার্ড মেডিটেশন রেকর্ডিং, যেখানে দলাই লামার শান্ত কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে আত্ম-অনুসন্ধান, করুণা, মানবিক ভারসাম্য ও পরিবেশ-সচেতনতার কথা। তাঁর বাণীর সঙ্গে সূক্ষ্মভাবে মিশে রয়েছে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সুর, যা শ্রোতাকে ধ্যান ও আত্মমগ্নতার এক গভীর স্তরে পৌঁছে দেয়। আধ্যাত্মিকতা, সমাজচিন্তা ও রাজনীতির ভাষ্য যাঁর বক্তৃতায় বরাবরই উপস্থিত, সেই দলাই লামার কণ্ঠ এবার পৌঁছে গেল মূলধারার বিশ্বসংগীতের শ্রোতাদের কাছেও। তাই অনেকেই এই জয়কে বলছেন ‘স্পিরিচুয়ালিটির পপ কালচার জয়’।
পুরস্কারপ্রাপ্ত অ্যালবামটি একটি স্পোকেন-ওয়ার্ড মেডিটেশন রেকর্ডিং, যেখানে দলাই লামার শান্তির বাণীর সঙ্গে মিশে রয়েছে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সুর। আত্ম-অনুসন্ধান, করুণা, মানবিক ভারসাম্য ও শান্তির দর্শন এই মূল্যবোধগুলিই অ্যালবামের মূল ভিত্তি।
আধ্যাত্মিকতা, সমাজচিন্তা ও রাজনীতির বার্তা যাঁর ভাষণে বরাবরই উপস্থিত, সেই দলাই লামার কণ্ঠ এবার পৌঁছে গেল মূলধারার বিশ্বসংগীতের শ্রোতাদের কাছেও। অনেকেই এই জয়কে বলছেন “স্পিরিচুয়ালিটির পপ কালচার জয়”।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে তিব্বতে চিনা দখলদার বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে ২৩ বছরের তেনজিন গিয়াতসো দুর্গম পাহাড় পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। তারপর থেকে ভারতই তাঁর দ্বিতীয় ঘর। তাঁকে ঘিরে ভারত-চিন কূটনৈতিক টানাপোড়েন আজও অব্যাহত। বেজিং তাঁকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ মনে করলেও, ভারত বারবার তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলাই লামা ও ভারতের সম্পর্ক এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে পরিণত হয়েছে।
গ্র্যামি পাওয়ার পর এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দলাই লামা লেখেন, “আমি কৃতজ্ঞতা ও বিনয়ের সঙ্গে এই স্বীকৃতি গ্রহণ করছি। এটি আমি ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখছি না, বরং শান্তি, করুণা, পরিবেশের যত্ন এবং মানবতার ঐক্যের মতো সার্বজনীন দায়িত্বের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছি। এই বার্তাগুলি আটশো কোটি মানুষের সম্মিলিত মঙ্গলের জন্য অপরিহার্য।”
স্পোকেন-ওয়ার্ড বিভাগে বিনোদন জগতের বাইরের ব্যক্তিদের গ্র্যামি জয় নতুন নয়। এর আগে বারাক ওবামা, মিশেল ওবামা এই বিভাগে একাধিকবার পুরস্কৃত হয়েছেন। তবে ৯০ বছর বয়সে এসে আধ্যাত্মিক বাণীর জন্য দলাই লামার এই জয় গ্র্যামির ইতিহাসে এক অনন্য সংযোজন হয়েই থাকবে।
