আজকের দিনেতিলোত্তমাভারত

কী ছিল সবুজ ফাইলে ? সুপ্রিম কোর্টে হলফনামায় জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- গতকাল সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলায় হলফনামা জমা দেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । এই হলফনামায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী জানিয়েছেন” ইডির বাজেয়াপ্ত করা কোনো নথি তিনি আনেননি। শুধুমাত্র পার্টির কাজের সঙ্গে যুক্ত সংবেদনশীল গোপন নথি ও ইলেকট্রনিক গেজেট তিনি এনেছিলেন”।
বিগত জানুয়ারি মাসের ৮ তারিখ পয়লা বাজার মামলার তদন্ত সূত্র ধরে ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাক এর অন্যতম কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে এবং অফিসে গিয়েছিল ইডি । তদন্ত চলাকালীনই তড়িঘড়ি সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সেখান থেকে সবুজ রঙের একটি ফাইল নিয়ে তিনি বেরিয়ে আসেন। তারপরই তদন্ত বাধা দেওয়ার অভিযোগে এবং নথি ছিনতাইয়ের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। গতকাল ২রা ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে একটি হলফনামা জমা করা হয় রাজ্যের শাসক দলের পক্ষ থেকে । সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান তদন্তে তিনি কোন বাধা দেননি। কয়লা কান্ডের তদন্তের সময় সেখানে অল্প সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন । কয়লা পাচার কাণ্ডের তদন্তের নাম করে তৃণমূলের গোপন তথ্য চুরি করা ছিল ইডির লক্ষ্য । ওই তল্লাশির কোন আইনি বৈধতা ছিল না , সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই তল্লাশি চালানো হয়েছিল এই অভিযোগ করেছেন তিনি। ভোটের আগে বিরোধী রাজ্যগুলিতে ধরনের হানা দেওয়া একটি প্যাটার্ন এ পরিণত হয়েছে সুপ্রিম হলফনামায় উল্লেখ করেন তিনি। । কয়লা চুড়ির টাকা যে প্রতীক জৈন এর কাছে গিয়েছে সেই প্রমাণ ও পেশ করতে পারেনি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, শুধুমাত্র তৃণমূলের গোপন নথি নিয়ে যাওয়াই তাদের উদ্দেশ্য ছিল হলফনামায় জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ।

আইব্যাক এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে আনা দেওয়া বিতর্ক শুরু হওয়ার পর ইডির পক্ষ থেকে জানানো হয় ” দেশের ১০ টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালিয়েছে ইডি, যার মধ্যে ছয়টি পশ্চিমবঙ্গে ও বাকি চারটি জায়গা দিল্লিতে । আগে কয়লা কেলেঙ্কারি তদন্তে অনুপ মাঝির র‍্যাকেট এর কথা সামনে এসেছিল তাতে ইডি জানতে পেরেছে চুরি হওয়া কয়লা বাঁকুড়া বর্ধমান পুরুলিয়ার একাধিক কোম্পানিতে বিক্রি করা হয়েছে। হাওয়ালা যোগের কথাও তদন্ত চলাকালীন উঠে আসে । জানতে পারেন আইপ্যাক এর মধ্যস্থতায় হাওয়ালার মাধ্যমে ১০ কোটি টাকার মতো লেনদেন হয়েছে । সেই সূত্র ধরেই প্রতীক জৈন এর বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালানো হয়েছিল । আজ ৩রা ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল , কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা হলফনামার জবাব দেওয়ার জন্য ইডির পক্ষ থেকে সময় চাওয়া হয় । আর ইডির আবেদনের ভিত্তিতে সেই শুনানি পিছিয়ে আগামী মঙ্গলবার অর্থাৎ ১০ই ফেব্রুয়ারি তারিখ ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট । ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা আগামী সপ্তাহেই এই মামলার গতিপথ কোন দিকে যাবে তা অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *