কয়লা পাচার মামলায় ইডির জালে ২
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে ফের সক্রিয় হয়ে উঠল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। পুরনো কয়লা পাচার মামলায় কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থার জালে ধরা পড়ল দুই কয়লা ব্যবসায়ী। ধৃতদের নাম কিরণ খাঁ ও চিন্ময় মণ্ডল। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত চিন্ময় মণ্ডল কয়লা পাচার মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত অনুপ মাজি ওরফে লালার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
সোমবার দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর গভীর রাতে কিরণ খাঁ ও চিন্ময় মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে ইডি। সূত্রের খবর, দীর্ঘ জেরায় তাঁদের বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগ ওঠে। এরপরেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই কয়লা পাচার মামলা নতুন নয়। পুরনো এই মামলায় এর আগেও ইডি তল্লাশি চালিয়েছিল রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের অফিস ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে। সেই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। মামলা গড়ায় কলকাতা হাই কোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত।
এরপরই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি কলকাতায় এসে রাজ্যের ইডি আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের ডিরেক্টর রাহুল নবীন। ওই বৈঠকে কয়লা পাচার, বালি পাচার-সহ রাজ্যের একাধিক ‘হেভিওয়েট’ মামলার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের পর থেকেই তাৎপর্যপূর্ণভাবে কয়লা পাচার মামলার তদন্তে গতি বাড়ে।
গত কয়েকদিন ধরে একাধিক কয়লা ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইডি। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই চলতি মাসের ৩ তারিখ আসানসোলের রানিগঞ্জ, জামুরিয়া-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে তল্লাশি চালান তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। একাধিক ব্যবসায়ীর বাড়িতে দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চলে।
তল্লাশির সময় জামুরিয়ার এক ব্যবসায়ীর বাড়ির গুদামঘর থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা নগদ উদ্ধার করেন ইডি আধিকারিকরা। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। একই দিনে বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়।
এই মামলার প্রেক্ষিতেই সোমবার ইডির দফতরে তলব করা হয় মনোরঞ্জন মণ্ডলকে। পাশাপাশি তলব করা হয় দুই কয়লা ব্যবসায়ী কিরণ খাঁ ও চিন্ময় মণ্ডলকে। তিনজনকে আলাদা আলাদা করে এবং একাধিক দফায় জেরা করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। ইডি সূত্রে খবর, কিরণ খাঁ একসময় কয়লা মাফিয়া হিসেবে কাজ করলেও পরবর্তীকালে নিজেকে কয়লা ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। অন্যদিকে চিন্ময় মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে কয়লা পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত এবং অনুপ মাজি ওরফে লালার ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ইডির ধারণা, ধৃত দুই ব্যবসায়ীকে আরও জেরা করলে কয়লা পাচার সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। বিশেষ করে পাচারের টাকা কোথায় কোথায় গেছে, কারা এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত এবং আর্থিক লেনদেনের রুট কী—সেসব তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ভোটের আগে এই গ্রেপ্তার রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়াতে পারে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
