এসআইআর বিতর্কে কলমে প্রতিবাদ অভিষেকের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- চারপাশে ঘটে চলা ঘটনাবলি, বিশেষত সাধারণ মানুষের সমস্যা ও যন্ত্রণা যদি বুকে ধারণ না করা যায়, তবে সৃষ্টিশীল কোনও কাজ সম্ভব নয়—এই বিশ্বাস থেকেই বহু সংবেদনশীল মানুষ তাঁদের প্রতিবাদ প্রকাশ করেন শব্দে, অক্ষরে, রং-তুলিতে। সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন ঘিরে বাংলায় যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রভাব ফেলেছে সৃষ্টিশীল মহলেও।
সেই ধারাবাহিকতায় এবার রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি কলম হাতে প্রতিবাদে শামিল হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এসআইআর-এর বিরুদ্ধে নিজের লেখা কবিতায় শাসকের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন অভিষেক। কবিতার নাম ‘আমি অস্বীকার করি’। কবিতার প্রতিটি ছত্রে উঠে এসেছে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ, ভয় আর যন্ত্রণার ছবি। কবিতার শুরুতেই তিনি লেখেন “আমি অস্বীকার করি এই হঠকারিতা, এই তালিকার শাসন, এই ভয়ের রাজত্ব। আমি অস্বীকার করি— রাষ্ট্রের নামে রক্তের ঋণ, আমি অস্বীকার করি— রক্তের উপর কালির শাসন।”
এই পংক্তিগুলিতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে সাধারণ মানুষের উপর নেমে আসা চাপ, আতঙ্ক এবং শাসনের বিরুদ্ধে কবির তীব্র প্রতিবাদ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতায় উঠে এসেছে এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রাণহানির বিষয়টিও। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কবিতায় তিনি লেখেন, “এটা শুধু সংখ্যা নয়, এ রাষ্ট্রের লাগানো আগুনে মানুষের চিৎকার।”
এসআইআর-এর সারবত্তাহীনতা ও নিষ্ঠুরতার দিকে আঙুল তুলে তিনি আরও লেখেন, “রাষ্ট্রের খাতায় ঠাঁই পায় প্রাণের বদলে পরিসংখ্যান,
শাসকের বুটের তলায় পিষে যায় বিবেক, সত্য আর সম্মান।”
ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনেও শাসকদের সতর্ক করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কবিতায় তিনি স্মরণ করিয়ে দেন—“আর ইতিহাস সে ক্ষমা করে না, সে তালিকা পড়ে না। ইতিহাস মনে রাখে কে রুখেছিল, কে লড়াই করেছিল, কে দাঁড়িয়েছিল, কে আগুন জ্বালিয়েছিল। যে মানুষকে তুচ্ছ করে ইতিহাস তাকে কখনো ক্ষমা করে না।”
দীর্ঘ এই কবিতার প্রতিটি স্তবকে যেভাবে এসআইআর পরিস্থিতির যন্ত্রণা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ভাষা উঠে এসেছে, তাতে স্পষ্ট পথের আন্দোলনের পাশাপাশি কলমের মাধ্যমেও এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় সুর চড়াচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর-এর প্রতিবাদে ২৬টি কবিতা লিখেছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও। রাজনীতির ময়দান ছাড়িয়ে সৃষ্টিশীল প্রতিবাদের এই নতুন অধ্যায় বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
