একাধিক ভোটারের বাবার নাম এক, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামায় জানাল কমিশন
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে, এবার তা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছেছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির ভূমিকা নিয়ে ধারাবাহিক অভিযোগের মাঝেই জাতীয় নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভোটার তালিকা যাচাইয়ের সময় এমন তথ্য সামনে এসেছে, যা স্বাভাবিক যুক্তির সঙ্গে খাপ খায় না। হলফনামায় বিশেষভাবে বীরভূমের নানুর এলাকার নথি পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, সেখানে ৩৮৯ জন ভোটারের বাবার নাম এক। কমিশনের প্রশ্ন, একজন মানুষের পক্ষে কি এতজন সন্তান হওয়া সম্ভব? এই তথ্যকে তাঁরা ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা যুক্তিগত অসঙ্গতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। শুধু বীরভূম নয়, রাজ্যের অন্যান্য জেলায়ও অনুরূপ অস্বাভাবিক তথ্য পাওয়া গেছে। মুর্শিদাবাদে ১৯৯ জন ভোটারের বাবার নাম একই, দার্জিলিংয়ে এই সংখ্যা ১৫২, জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা এলাকায় ১২০ জন, এবং শিল্পাঞ্চল আসানসোলে এমন ১৭০ জন ভোটারের তথ্য এক অভিভাবকের নামে নথিভুক্ত। কমিশনের মতে, এই ধরনের তথ্য ভোটার তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
এসআইআর প্রক্রিয়ার মূল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হলো লক্ষাধিক মানুষকে কেন শুনানির জন্য নোটিস পাঠানো হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, যাচাইয়ের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে এবং এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে। এই অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে কমিশন সুপ্রিম কোর্টে তাঁদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। হলফনামায় বলা হয়েছে, এমন অস্বাভাবিক ও অসঙ্গত তথ্যের কারণে ব্যাপক সংখ্যায় নোটিস জারি করা হচ্ছে, যাতে প্রতিটি ক্ষেত্র আলাদাভাবে যাচাই করা যায়।
কমিশনের যুক্তি, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে সামান্য অসঙ্গতিও উপেক্ষা করা যায় না। একই অভিভাবকের নামে বিপুল সংখ্যক ভোটার থাকা মানে বা তো তথ্যভ্রান্তি, বা জাল নথির সম্ভাবনা উভয়ই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক। তাই এসআইআর প্রক্রিয়াকে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
তবে কমিশনের এই ব্যাখ্যা কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে নজর এখন সুপ্রিম কোর্টের দিকে। একদিকে রয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ, অন্যদিকে রয়েছে কমিশনের পেশ করা অস্বাভাবিক পরিসংখ্যান। এই দুইয়ের ভারসাম্য বিচার করে সুপ্রিম কোর্ট কী পর্যবেক্ষণ দেবে এবং শেষ পর্যন্ত কী নির্দেশ আসবে, সেটাই এখন রাজনৈতিক মহলের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।
