এআইডব্লিউডিএ-র সাধারণ সম্পাদক কনীনিকা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- সিপিএমের মহিলা গণসংগঠন সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি (এআইডব্লিউডিএ)-র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হলেন কনীনিকা ঘোষ বোস। তিনি সিপিএমের কলকাতা জেলা কমিটির সদস্য এবং বর্তমানে দলের রাজ্য কমিটিরও গুরুত্বপূর্ণ নেতা। সম্প্রতি হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত সংগঠনের সর্বভারতীয় সম্মেলনেই তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।
মহিলা সংগঠনের সর্বভারতীয় স্তরের শীর্ষ নেতৃত্বে বাংলার প্রতিনিধির উঠে আসা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। ইতিমধ্যেই সিপিএমের ছাত্র ও যুব সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের প্রাধান্য রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার মহিলা সংগঠনের শীর্ষ পদেও জায়গা করে নিল বাঙালি মুখ।
সম্মেলনে মহিলা সমিতির সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন পি কে শ্রীমতী। কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন তাপসী প্রহরাজ। সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও নেত্রী মালিনী ভট্টাচার্য। এছাড়াও সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে একাধিক মহিলা নেত্রী জায়গা পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জাহানারা খান, মোনালিসা সিনহা, আত্রেয়ী গুহ, রমা বিশ্বাস, দেবলীনা হেমব্রম, দীপু দাস, সোমা দাস, ঈশিতা মুখোপাধ্যায়, মণি থাপা, পারমিতা সেন রায়, সিক্তা জোয়ারদার এবং সুপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় কমিটিতে নতুন মুখ তুলে আনার ক্ষেত্রে যে সিপিএম বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, এই তালিকাতেই তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
কলকাতার বেলগাছিয়া অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই বামেদের মহিলা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কনীনিকা ঘোষ বোস। বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে একাধিকবার প্রার্থী হলেও জয় না পেলেও আন্দোলন, প্রতিবাদ মিছিল, দলীয় সভা ও সংগঠনের কর্মসূচিতে তাঁকে বরাবরই সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। কলকাতা-কেন্দ্রিক রাজনীতিতে তিনি পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ।
দীর্ঘদিনের সংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং মহিলা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপই এবার তাঁকে সর্বভারতীয় স্তরে মহিলা নেতৃত্বের শীর্ষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্তরে নতুন নারী নেতৃত্বকে দায়িত্ব দিয়ে মহিলা আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার বার্তাও দিল সিপিএম।
