আনন্দপুর আগুন মামলায় আদালতে অদ্ভূত যুক্তি গোডাউন মালিকের আইনজীবীর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- দক্ষিণ ২৪ পরগনার আনন্দপুর এলাকায় একটি গোডাউনে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা নিয়ে এখনও এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা রয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া গোডাউন মালিক গঙ্গাধর দাসকে আদালতে পেশ করা হলে, তাঁর পক্ষে দেওয়া আইনজীবীর সাফাই শুনে অনেকেই বিস্মিত হন।
আদালতে গঙ্গাধর দাসের আইনজীবী স্পষ্টভাবে দাবি করেন, এই অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর মক্কেলের কোনও সরাসরি যোগ নেই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গঙ্গাধর দাস শুধুমাত্র গোডাউনটি ভাড়া দিয়েছিলেন। সেখানে কী ধরনের কাজ চলছিল বা কী ধরনের জিনিস মজুত করা হচ্ছিল, তা দেখভালের দায়িত্ব মালিকের নয়। এই যুক্তি বোঝাতে আইনজীবী আদালতে একটি উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, “কোনও বিমান দুর্ঘটনা ঘটলে বিমানের মালিককে গ্রেফতার করা হয় না। ঠিক তেমনই, গোডাউনে আগুন লাগলেও শুধুমাত্র মালিক হওয়ায় কাউকে দায়ী করা যায় না।” এই মন্তব্যকে ঘিরে আদালতে বেশ আলোচনা শুরু হয়।
আইনজীবী আরও জানান, গঙ্গাধর দাসের বয়স ৭০ বছরের বেশি এবং তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। নিয়মিত চিকিৎসা প্রয়োজন হয় তাঁর। গোডাউনে কর্মীদের দেখভাল করার জন্য আলাদা লোকও নিযুক্ত ছিল। পাশাপাশি, ভাড়ার চুক্তিতে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল যে, গোডাউনের ভিতরে কোনও দাহ্য বা বিপজ্জনক বস্তু রাখা যাবে না। যদি সেই শর্ত ভেঙে থাকে, তাহলে তার সম্পূর্ণ দায় ভাড়াটিয়ার, মালিকের নয় এমনটাই দাবি করেন তিনি।
তবে সরকারি পক্ষ এই যুক্তির কড়া বিরোধিতা করে। সরকারি কৌঁসুলি আদালতে বলেন, গোডাউনের ভিতরে বিপুল পরিমাণ দাহ্য সামগ্রী ও একাধিক এলপিজি সিলিন্ডার মজুত ছিল। এই কারণেই আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ রূপ নেয়। এমন পরিস্থিতিতে গোডাউনের মালিক সমস্ত দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না।
সরকারি পক্ষ আরও জানায়, একজন গোডাউন মালিক হিসেবে গঙ্গাধর দাসের দায়িত্ব ছিল নিয়মিতভাবে গোডাউনটি পরিদর্শন করা এবং সেখানে কী ধরনের জিনিস রাখা হচ্ছে, তা নজরে রাখা। সেই দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন না করার ফলেই এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন কৌঁসুলি।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত আপাতত গঙ্গাধর দাসকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হবে, যাতে তদন্তকারীরা ঘটনার প্রতিটি দিক খুঁটিয়ে দেখতে পারেন।
এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে গোডাউনের আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নেভাতে দমকল বাহিনীকে দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করতে হয়। ঘটনায় কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি।
এই মামলায় আদালতে দেওয়া সাফাই ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
গোডাউন মালিক কি শুধু ভাড়া দিলেই দায়মুক্ত থাকতে পারেন? নাকি এমন বড় দুর্ঘটনায় মালিকেরও সমান দায়িত্ব থাকা উচিত?
এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
