আদালতে অনুপস্থিত আখতার আলি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরেও আদালতে অনুপস্থিত প্রাক্তন ডেপুটি সুপার (নন-মেডিক্যাল) আখতার আলি। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় সোমবারও আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতে তাঁর দেখা মেলেনি। আত্মসমর্পণের জন্য নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও হাজিরা না দেওয়ায় মামলার ভবিষ্যৎ গতি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
আরজি কর দুর্নীতি মামলায় হাজিরা এড়ানোর অভিযোগে আগেই আখতার আলির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। সেই পরোয়ানা জারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি আদালত চত্বরে এলেও আত্মসমর্পণের আবেদন জমা দিতে পারেননি। আইনজীবী না থাকায় শনিবার তাঁর আবেদন গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তখন আখতার আলি জানিয়েছিলেন, সোমবার তিনি ফের আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করবেন।
কিন্তু সোমবারও সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়নি। সকাল ১১টা পেরিয়ে গেলেও আখতারের কোনও খোঁজ মেলেনি। তাঁর অপেক্ষায় আলিপুর আদালত চত্বরে উপস্থিত ছিলেন সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিকরা এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীরা। অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে ফের অচলাবস্থা তৈরি হয় আদালতে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক-পড়ুয়ার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্ত চলাকালীনই সামনে আসে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ। সে সময় কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির একাধিক অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন ডেপুটি সুপার আখতার আলি। সেই অভিযোগ ঘিরে বিষয়টি গড়ায় উচ্চ আদালত পর্যন্ত।
তবে তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই বদলেছে ছবিটা। সিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, অভিযোগকারী আখতার আলিও আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়ে আদালতে। এরপর একাধিকবার সমন পাঠানো হলেও তিনি আদালতে হাজিরা দেননি।
এরই মধ্যে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন আখতার আলি। তাঁর দাবি, তিনি কোমরের তীব্র ব্যথায় ভুগছেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে বিশ্রামে রয়েছেন। হাসপাতাল থেকেই তিনি জানান, কোনও দুর্নীতিতে তিনি যুক্ত নন এবং তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, সরকারি মেডিক্যাল কলেজের দুর্নীতিবাজদের মুখোশ খুলে দেওয়ার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র।
আখতার আলির দাবি, “আমি নির্দোষ। আরজি করে ধর্ষণ-খুনের ঘটনা ঘটেছে ২০২৪ সালে। সন্দীপ ঘোষ অধ্যক্ষ হন ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। আমার দাদা ২০২০ সালে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। সেই সময় দাদার চিকিৎসার জন্য আমি টাকা ধার নিয়েছিলাম। দাদাকে বাঁচানো যায়নি। এখন সেই ঘটনাকেই টেনে এনে আমাকে দুর্নীতিতে জড়ানো হচ্ছে।”
তবে এই সব দাবির মধ্যেও শেষ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে একের পর এক দিন অনুপস্থিত থাকায় আখতার আলিকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনাচ্ছে। কবে তিনি আত্মসমর্পণ করবেন, নাকি সিবিআই তাঁকে গ্রেপ্তার করবে সেদিকেই এখন নজর আইন ও তদন্তকারী মহলের।
