আজকের দিনেতিলোত্তমা

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পথেই কি বিশ্বজিৎ বসু?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- প্রাক্তন হাইকোর্ট বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পথেই কি হাঁটতে চলেছেন আদালতের আর এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক ও বিচার মহলে। বৃহস্পতিবার একটি জনৈক সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে বিচার ব্যবস্থা, শিক্ষাক্ষেত্র এবং নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশ্যে নিজের মতামত রাখেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। তাঁর বক্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ও প্রথমবার একটি সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। যদিও সে সময় তিনি কর্মরত বিচারপতি ছিলেন। পরবর্তীতে অবসরের আগেই বিচারপতির পদ ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। অন্যদিকে, বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু অবসর নেওয়ার পর এই প্রথম কোনও সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন।

সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকের একাধিক প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের সাম্প্রতিক নানা ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন বিচারপতি বসু। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ঘটনা একাধিক বিষয়েই নিজের মতামত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন তিনি। এক পর্যায়ে বিচার ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “বিচার ব্যবস্থার স্বাস্থ্য ভালো নেই।”

আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় হাই কোর্টের নির্দেশের পর সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত মামলার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় সাক্ষাৎকারে। সেই প্রসঙ্গে বিচারপতি বসু বলেন, “ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্ট সেটা করতে পারে। তবে মানুষের অনাস্থা বা হতাশা সবটাই এসে পড়ে বিচার ব্যবস্থার উপর।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস ক্ষুণ্ণ হলে তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হয়।

শিক্ষা ক্ষেত্র ও নিয়োগ দুর্নীতি নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন অবসরপ্রাপ্ত এই বিচারপতি। তাঁর কথায়, “শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি শুধু শিক্ষাকে ধ্বংস করেছে, তা নয় এর শিকড় আরও অনেক গভীরে।” তিনি আক্ষেপ করে বলেন, শিক্ষকদের মূল কাজ পড়ানো হলেও বাস্তবে তাঁদের শিক্ষার বাইরের নানা কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যই ক্ষতিকর।

এই সাক্ষাৎকারের পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো কি ভবিষ্যতে অন্য কোনও ভূমিকার পথে এগোচ্ছেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু? যদিও এই বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু না বললেও, তাঁর মন্তব্য ঘিরে জল্পনা যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *