আজকের দিনেগ্রীন রুম

অঞ্জন দত্ত ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘প্রত্যাবর্তন’

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বড়পর্দায় প্রথমবার একসঙ্গে দেখা যাবে অঞ্জন দত্ত ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে। সমর্পণ সেনগুপ্তের পরিচালনায় আসছে নতুন বাংলা ছবি ‘প্রত্যাবর্তন’। শ্রী অভিজ্ঞান ড্রিমওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেডের প্রযোজনায় তৈরি এই ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করছেন অঞ্জন দত্ত ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। ছবির প্রযোজক অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়। চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে রয়েছেন গোপী ভগত এবং সঙ্গীত পরিচালনা করছেন বনি চক্রবর্তী।

‘প্রত্যাবর্তন’-এর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন শিলাজিৎ মজুমদার, অপরাজিতা আঢ্য, খরাজ মুখোপাধ্যায়, গৌরব তপাদার, দেবরঞ্জন নাগ, অরুণাভ খাসনবিশ, রূপা ভট্টাচার্য, ডা. কৌশিক ঘোষ, অলোক সান্যাল, সুপ্রভ টেগোর ও কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এই ছবির গল্প শুরু হয় পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামে বড় হয়ে ওঠা ডঃ দীপঙ্কর সান্যালকে ঘিরে। স্ত্রী শালিনী ও তিন বছরের কন্যাকে নিয়ে তিনি মফস্বলের একটি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপকের চাকরি ছেড়ে কলকাতায় চলে আসেন প্র্যাকটিস করতে। লক্ষ্য একটাই ভাল থাকা, আরও বড় হওয়া এবং শহরের আধুনিক সুযোগ-সুবিধার মধ্যে মেয়েকে বড় করে তোলা।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শহুরে বিলাসিতা, সামাজিক প্রতিপত্তি এবং আরও উন্নতির নেশা ধীরে ধীরে গ্রাস করে নেয় দীপঙ্কর ও শালিনীকে। অজান্তেই তাঁরা নিজেদের শিকড়, নিজেদের পরিচয় ভুলে যেতে থাকেন। দেখতে দেখতে কেটে যায় বারোটা বছর। আধুনিক আত্মকেন্দ্রিক জীবনের চাপে তাঁদের ছোট্ট সুখী পরিবারও ভেঙে পড়তে শুরু করে।

এই ইঁদুর-দৌড়ে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে পড়ে তাঁদের মেয়ে দিশা। একাকিত্ব আর নিজের পরিচয় খোঁজার তাগিদে সে আশ্রয় নেয় সাইবার দুনিয়ার, খুঁজে পায় সোশ্যাল মিডিয়া এক্সিস্টেন্স। আর সেখানেই ঘটে যায় এক ভয়াবহ বিপত্তি। এর ফলেই গোটা সমাজ এসে দাঁড়ায় কলকাতার নামী সার্জেন ডঃ দীপঙ্কর সান্যাল ও তাঁর সমাজে পরিচিত সোশ্যালাইট স্ত্রী শালিনীর বিপরীতে। সমাজের চোখে হঠাৎ করেই তাঁরা অপরাধী হয়ে ওঠেন। কোনও সহানুভূতি নয়, সমাজ চায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

ঠিক এই সংকটের মুহূর্তেই নিজেদের ভুল উপলব্ধি করতে পারেন দীপঙ্কর ও শালিনী। পালিয়ে যাওয়ার বদলে তাঁরা সত্যের মুখোমুখি হতে ফিরে যান নিজেদের শিকড়ে। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁদের প্রত্যাবর্তনের লড়াই—প্রথমে নিজেদের সঙ্গে, তারপর সমাজের সঙ্গে। সমসাময়িক সমাজ, অভিভাবকত্ব, আত্মকেন্দ্রিকতা ও ডিজিটাল বিপদের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে কেন্দ্র করে তৈরি ‘প্রত্যাবর্তন’ যে দর্শকের মনে গভীর প্রভাব ফেলবে, তা বলাই যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *